স্পোর্টস রিপোর্টার : একেই বলে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ইস্টবেঙ্গল। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-২ যোগ্যতা অর্জন পর্বের খেলায় কুয়েতের অন্যতম সেরা দল আল আরবি এসসি-র বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের লড়াইটা ছিল দেখার মতন। এই দুই দলের মধ্যে যে দল জিতবে, তারাই মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। তাই ইস্টবেঙ্গলের কোচ হাবাস অত্যন্ত নিপুণ ছক কষে আল আরবির আক্রমণের ঝড় সামাল দিয়েছেন। উল্টোদিকে আল আরবির কোচ গোরান সাবলিচ প্রতিপক্ষ দলকে কীভাবে ঘায়েল করা যায়, তার রূপরেখা তৈরি করেন। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের দুরন্ত লড়াইয়ে প্রমাণ করে দিয়েছে জয় কীভাবে ছিনিয়ে আনা যায়। শেষ পর্যন্ত ইস্টবেঙ্গল ৪-১ গোলে কুয়েতের আল আরবি দলকে হারিয়ে দিয়ে জয়ের মশাল জ্বালিয়ে দিল।
নির্দিষ্ট সময়ে দু’পক্ষই একটি করে গোল করায় খেলা গড়িয়ে যায় অতিরিক্ত সময়ে। বুধবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গণে এই খেলা দেখার জন্য দর্শকদের ভিড় চোখে পড়েনি। তবে খেলার শুরু থেকেই আল আরবি পাঁচ বিদেশিকে নিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলার চেষ্টা করে। কিন্তু লাল-হলুদের ডিফেন্ডাররা অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন। পাল্টা আক্রমণে ইস্টবেঙ্গলের মহম্মদ রশিদের শট কোনওক্রমে বাঁচান আল আরবির গোলকিপার আলওয়াধি।
২৭ মিনিটের মাথায় আল আরবির রক্ষণভাগ ভেঙে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন এডমুন্ড। কিন্তু বলটি মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেন। খেলার প্রথমার্ধে কোনও পক্ষই গোল করতে পারেনি। তবে ইস্টবেঙ্গল দ্বিতীয়ার্ধে গতি বাড়িয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে। ৭১ মিনিটের মাথায় রামিজের বদলে মাঠে আসেন পি ভি বিষ্ণু। ৭৬ মিনিটে আল আরবি দল পেনাল্টি পেয়ে যায়। বক্সের মধ্যে মালেকোকে ফাউল করেন সন্দীপ মাণ্ডি। পেনাল্টি থেকে ইওয়ালা গোল করে আল আরবিকে এগিয়ে দেন। ৭৭ মিনিটের মাথায় জেসিনের জায়গায় মাঠে আসেন ক্রিস ইকোনোমিডিস। ৮৯ মিনিটের মাথায় রশিদের ভাসানো ক্রসে দুরন্ত হেডে গোল করেন জয় গুপ্তা। নির্দিষ্ট সময়ে ফলাফল বদল না হওয়ায় অতিরিক্ত সময়ে খেলা গড়িয়ে যায়। অতিরিক্ত সময়ে ইস্টবেঙ্গলের খেলা আগুনের মতো ছুটতে থাকে।
অতিরিক্ত সময়ে প্রথমে মহম্মদ রশিদ দুরন্ত হাফ ভলিতে ইস্টবেঙ্গলকে ২-১ গোলে এগিয়ে দেন। তারপরে ডেভিড গোল করে ব্যবধান (৩-১) বাড়িয়ে দেন। পরিবর্ত খেলোয়াড় রোহিত দানুর গোলে ইস্টবেঙ্গল ৪-১ গোলে এগিয়ে যেতেই আনন্দে আর উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। কাগুজে মশালে জ্বলতে থাকে সমর্থকদের হাতে। লাল হলুদ কোচ হাবাস বলেন, ‘দারুণ জয়। আমরা ভাল খেলেছি। প্রাক মরশুম না হওয়ায় চিন্তিত ছিলাম। তবে আমি তীব্রতা ধরে রাখতে বলেছিলাম। সংগঠিত থাকার পরামর্শ দিই। আমরা প্রতিনিয়ত গোলের চেষ্টা করি।’
এদিন বৃষ্টি হলেও, আদ্রতা বেশি ছিল। ম্যাচ চলাকালীন আট বোতল জল খান হাবাস।আপাতত এএফসি থেকে ফোকাস সরবে ডুরান্ড কাপে। হাবাস জানান, মরশুমের শুরুতে এই জয় দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। এবার ডুরান্ডে জয়ের জন্য ঝাঁপাবে টিম হাবাস। অন্যদিকে দলের খেলায় হতাশ আল আরাবির কোচ। দাবি, শেষ ৩০ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের কাছে আত্মসমর্পণ করে তাঁরা। এটাই দুই দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। প্রথম ৯০ মিনিট দলের খেলায় সন্তুষ্ট। কিন্তু বাকি সময়টার কোনও ব্যাখ্যা নেই তাঁর কাছেও। তবে রিজার্ভ বেঞ্চকে দুষলেন। কিন্তু বৃষ্টিভেজা মাঠকে ব্যর্থতার কারণ হিসেবে দেখাতে নারাজ। গোরান বলেন, ‘খুবই হতাশ। হারের কোনও ব্যাখ্যা নেই। আমাদের শক্তিশালী বেঞ্চ ছিল না। তারওপর মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটে। বারবার একই ভুল হয়।’ চলতি মরশুমের শুরুতে কয়েকটা প্রীতি ম্যাচ খেলে আল আরাবি। কিন্তু কোনও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি।
ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ম্যাচই চলতি মরশুমে আল আরাবির প্রথম অফিসিয়াল ম্যাচ। সেটাকেও ব্যর্থতার কারণ হিসেবে দেখান কুয়েতের দলের কোচ। দাবি, শেষ ৩০ মিনিটে স্ট্র্যাটেজিতে কোনও পরিবর্তন আনেনি ইস্টবেঙ্গল। আল আরাবি নিজেদের ভুলেই হেরেছে। তবে সামগ্রিকভাবে ইস্টবেঙ্গলকেই এগিয়ে রাখেন গোরান। লাল হলুদের রশিদ বলেন, ‘সাফল্যের বিশেষ কোনও রহস্য নেই। মূলত আশীর্বাদ এবং ট্রেনিং। ঈশ্বরের আশীর্বাদে আমি ভাল খেলছি। পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম। ট্রেনিংয়ে যা করি, সেটা ম্যাচে প্রয়োগ করি। কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। নিজেকে উজাড় করে দিই। তাতেই সাফল্য। আমি নিজের সব সাফল্য বাবাকে উৎসর্গ করি। ওনার জন্য আমি আজ এই জায়গায় দাঁড়িয়ে। এদিনের গোল এবং সাফল্যও আমি বাবাকে উৎসর্গ করছি।’
দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বিদেশিদের মধ্যেও সেরা। কিন্তু বাকিদের সঙ্গে পারফরম্যান্সে তৈরি হচ্ছে বড় পার্থক্য। সতীর্থদের কী পরামর্শ দিতে চান? রশিদ বলেন, ‘আমরা একটা দলের জন্য খেলি। কে অধিনায়ক সেই নিয়ে কিছু যায় আসে না। সবাই একই তীব্রতা নিয়ে খেলেছে। সবাই ম্যাচে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে। রেজাল্ট তারই আশীর্বাদ।’ইস্টবেঙ্গল শীর্ষকর্তা বললেন, ভারতীয়রা পারে ইস্টবেঙ্গল সেটাই প্রমাণ করল। এই জয়কে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’