ওঙ্কার ডেস্ক: ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের নেপথ্যে আল কায়দার ভারতীয় উপমহাদেশীয় শাখা আল কায়দা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট-এর যোগ ছিল বলে জানাল রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের একটি সাম্প্রতিক রিপোর্ট। ১০ নভেম্বর ২০২৫-এর ওই বিস্ফোরণে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং বহু মানুষ আহত হন। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ নিষেধাজ্ঞা কমিটির অধীন এক কমিটির ৩৮তম রিপোর্টে দিল্লি বিস্ফোরণে আল কায়েদার ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্টে দক্ষিণ এশিয়ায় আল কায়দার কার্যকলাপ, তাদের সাংগঠনিক কাঠামোর পরিবর্তন এবং ছোট ছোট সেলের মাধ্যমে জঙ্গি কার্যকলাপ পরিচালনার প্রবণতা নিয়ে বিস্তারিত উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
গত বছর ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় লালকেল্লার কাছাকাছি একটি গাড়িতে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। আচমকা বিস্ফোরণে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যস্ত রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও ঐতিহাসিক এলাকার কাছে এই ঘটনা হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ঘটনাস্থলে একাধিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। তদন্ত শুরু হওয়ার পর ধীরে ধীরে সামনে আসতে থাকে একটি বৃহত্তর জঙ্গি ষড়যন্ত্রের ছবি। ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা পরবর্তী সময়ে এই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে। দীর্ঘ তদন্তের পর ২০২৬ সালের মে মাসে প্রায় ৭,৫০০ পাতার চার্জশিট আদালতে জমা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই চার্জশিটে ১০ জন অভিযুক্তের নাম উঠে আসে। এনআইএ-এর তদন্তে আরও দাবি করা হয়, এই হামলার সঙ্গে যুক্ত একটি ‘হোয়াইট-কলার’ জঙ্গি মডিউল দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল। তদন্তকারীদের মতে, মডিউলটির সঙ্গে একাধিক চিকিৎসক যুক্ত ছিলেন। পুরো মডিউলের সঙ্গে জড়িত ফারিদাবাদের আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়য়ের নাম উঠে আসে। তদন্তকারীদের চার্জশিট অনুযায়ী, মৃত চিকিৎসক উমর উন নবিই ছিলেন বিস্ফোরণের মূল অভিযুক্তদের একজন। বিস্ফোরণের সময় তিনি গাড়িটির মধ্যে ছিলেন এবং বিস্ফোরণে তাঁরও মৃত্যু হয়।
রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে আল কায়েদার সাংগঠনিক কৌশল নিয়েও বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আগের মতো বড় এবং সহজে শনাক্তযোগ্য জঙ্গি কাঠামোর পরিবর্তে ছোট, বিচ্ছিন্ন এবং বিকেন্দ্রীভূত সেলের মাধ্যমে কাজ করার প্রবণতা বাড়িয়েছে সংগঠনটি। এর ফলে কোনও একটি সেল ধরা পড়লেও গোটা নেটওয়ার্কের হদিস পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ, গোপন আর্থিক লেনদেন এবং ছোট গোষ্ঠীর মাধ্যমে সংগঠনের কার্যকলাপ পরিচালনা করা হচ্ছে বলে রিপোর্টে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।