ওঙ্কার ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে অজিত পওয়ারের আকস্মিক মৃত্যু শুধু এক জন নেতার প্রয়াণ নয়, বরং তার দল এবং গোটা রাজনৈতিক সমীকরণের সামনে এক গভীর অনিশ্চয়তার অধ্যায় খুলে দিয়েছে। বারামতির কাছে বিমান দুর্ঘটনায় উপ-মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুর পর শোকের আবহের মাঝেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠে এসেছে, এবার অজিত পওয়ারের দল কোথায় দাঁড়াবে?
গত কয়েক বছরে জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি ভেঙে নিজের আলাদা গোষ্ঠী গড়ে তুলেছিলেন অজিত পওয়ার। দলের নাম, প্রতীক এবং একাংশ বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে তিনি শাসক জোটে যোগ দেন এবং বিজেপি ও শিবসেনার সঙ্গে ক্ষমতার অংশীদার হন। সেই গোষ্ঠীর মূল মুখ, প্রধান সংগঠক এবং সিদ্ধান্তগ্রহণকারী ছিলেন স্বয়ং অজিত। কার্যত তার ব্যক্তিগত নেতৃত্ব ও প্রভাবের উপরই দাঁড়িয়ে ছিল পুরো শিবির। ফলে তার অনুপস্থিতিতে দল এখন নেতৃত্বহীন অবস্থায় পড়েছে।
দলের ভিতরে এখন স্পষ্ট কোনও উত্তরসূরি নেই। যেসব বিধায়ক এবং নেতা অজিতের উপর ভরসা করে তার দলে এসেছিলেন, তাদের অনেকেই ভবিষ্যৎ নিয়ে দোটানায়। কেউ কেউ আবার শরদ পওয়ারের নেতৃত্বাধীন মূল এনসিপিতে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। এতে শাসক জোটের শক্তির সমীকরণও নড়বড়ে হয়ে পড়তে পারে।
অজিত পওয়ার ছিলেন প্রশাসনিক দক্ষতা, সংগঠনিক ক্ষমতা এবং দর কষাকষির রাজনীতিতে পারদর্শী। বিজেপি-নেতৃত্বাধীন জোটে তার উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং পশ্চিম মহারাষ্ট্রে ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে তার ভূমিকা ছিল নির্ণায়ক। এখন তার মৃত্যুর ফলে সেই প্রভাবশালী মুখের অভাব স্পষ্ট। ফলে জোটের ভেতরেও নতুন করে নেতৃত্ব ও মন্ত্রিত্ব বণ্টন নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অজিত পওয়ারের দল আদতে ছিল ব্যক্তিত্বনির্ভর রাজনীতি। সংগঠন কাঠামো বা দ্বিতীয় সারির নেতৃত্ব ততটা শক্তিশালী ছিল না। তাই হঠাৎ এই শূন্যতা দলকে ভাঙনের দিকে ঠেলে দিতে পারে। অনেক বিধায়ক নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে নতুন জোট বা পুরনো শিবিরে ফেরার পথ বেছে নিতে পারেন।
অন্যদিকে শরদ পওয়ারের শিবিরের কাছে এটিকে বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিবার ও দলের অভিজ্ঞ নেতৃত্ব আবারও বিধায়কদের এক ছাতার তলায় আনার চেষ্টা করতে পারে। যদি সেই প্রচেষ্টা সফল হয়, তবে মহারাষ্ট্রে এনসিপির পুরনো শক্তি ফিরে আসতে পারে এবং বর্তমান ক্ষমতার সমীকরণ আমূল বদলে যেতে পারে।
