অ্যালার্জি একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। অনেক সময় নির্দিষ্ট কিছু খাবার খাওয়ার ফলে শরীরে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। যেমন—ত্বকে চুলকানি, লালচে দাগ, ফুসকুড়ি, চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া, হাঁচি, কাশি কিংবা শ্বাসকষ্ট। তাই অ্যালার্জি হলে খাবারের বিষয়ে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
অ্যালার্জি হলে কোন কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন?
অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে প্রথমেই জানতে হবে কোন খাবারটি আপনার শরীরে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। সাধারণত যেসব খাবারে অ্যালার্জি দেখা যায়, সেগুলি হলো—
১. চিংড়ি ও সামুদ্রিক মাছ: অনেকের ক্ষেত্রে চিংড়ি, কাঁকড়া, সামুদ্রিক মাছ অ্যালার্জির কারণ হতে পারে।
২. ডিম: বিশেষ করে ডিমের সাদা অংশে কারও কারও অ্যালার্জি হতে পারে।
৩. দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার: দুধ, পনির, মাখন ইত্যাদিতে কিছু মানুষের অ্যালার্জি দেখা যায়।
৪. বাদাম: চিনাবাদাম, কাজুবাদাম ও অন্যান্য বাদামে অ্যালার্জি হতে পারে।
৫. গম ও সয়াজাতীয় খাবার: কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এগুলিও অ্যালার্জির কারণ হতে পারে।
৬. প্রক্রিয়াজাত খাবার: প্যাকেটজাত খাবারের কিছু উপাদান বা সংরক্ষক পদার্থে সংবেদনশীলতা থাকতে পারে।
মনে রাখবেন, এই সব খাবার সবার জন্য ক্ষতিকর নয়। যে খাবারে আপনার অ্যালার্জি রয়েছে, শুধু সেটিই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এড়িয়ে চলুন।
অ্যালার্জি হলে কী করবেন?
কোন খাবার খাওয়ার পর অ্যালার্জি হচ্ছে, তা লিখে রাখুন।
চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অ্যালার্জি পরীক্ষা করান।
পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন এবং ত্বকের যত্ন নিন।
খাবারের প্যাকেটের উপাদান ভালোভাবে পড়ে নিন।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করুন।
সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খান।
অ্যালার্জি হলে কী করবেন না?
নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না।
যে খাবারে অ্যালার্জি হয়, সেটি আবার পরীক্ষা করার জন্য খাবেন না।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন অ্যান্টিহিস্টামিন খাবেন না।
অ্যালার্জির কারণে ত্বকে চুলকানি হলে অতিরিক্ত ঘষাঘষি করবেন না।
অন্যের ব্যবহৃত ওষুধ নিজের শরীরে প্রয়োগ করবেন না।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া একসঙ্গে অনেক খাবার খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেবেন না।
কখন দ্রুত চিকিৎসা নেবেন?
অ্যালার্জির কারণে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, গলা বা জিভ ফুলে যাওয়া, মাথা ঘোরা কিংবা অজ্ঞান হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে এটি গুরুতর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা নিন। আগে থেকে অ্যাড্রেনালিন অটো-ইনজেক্টর দেওয়া থাকলে নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবহার করুন।
অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং সময়মতো চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অযথা খাবার বাদ না দিয়ে নিজের অ্যালার্জির কারণ শনাক্ত করুন এবং সুস্থ থাকুন।