শরীরে ট্যাটু বা উল্কি আঁকা আজকাল ফ্যাশন ও আত্মপ্রকাশের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় মাধ্যম। তবে গাড়ির ট্যাটুর মতো শরীরের ট্যাটু করার ক্ষেত্রেও নানাবিধ স্বাস্থ্যগত ও ব্যক্তিগত সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। কারণ এটি সরাসরি আপনার ত্বক এবং রক্তের সাথে সম্পর্কিত।
শরীরে ট্যাটু করানোর আগে ও পরে যে সমস্ত বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, তার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
ট্যাটু করানোর আগের সতর্কতা
* লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্টুডিও নির্বাচন: সর্বদা একটি নামী, পেশাদার এবং সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ট্যাটু স্টুডিও বেছে নিন। রাস্তাঘাটে বা মেলায় সস্তায় ট্যাটু করানো থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।
* নতুন সূঁচ ও জীবাণুমুক্তকরণ: ট্যাটু করার ঠিক আগে শিল্পী আপনার সামনে নতুন, সিল প্যাক করা সূঁচ খুলছেন কিনা তা নিশ্চিত করুন। ব্যবহৃত সূঁচ থেকে হেপাটাইটিস বি এবং সি-এর মতো মারাত্মক রক্তবাহিত রোগ ছড়াতে পারে।
* কালির গুণগত মান: ট্যাটুতে ব্যবহৃত কালি যেন ভালো ব্র্যান্ডের এবং বিষাক্ত রাসায়নিক (যেমন ভারী ধাতু) মুক্ত হয়। নিম্নমানের কালির কারণে ত্বকে দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ হতে পারে।
* শারীরিক প্রস্তুতি: ট্যাটু করানোর আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুমান এবং খালি পেটে যাবেন না। ট্যাটু করানোর অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে অ্যালকোহল বা অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন, কারণ এগুলো রক্ত পাতলা করে দেয় এবং রক্তপাত বাড়াতে পারে।
ট্যাটু করানোর পরের সতর্কতা
* আর্দ্রতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: ট্যাটু শিল্পী যেভাবে পরামর্শ দেবেন, সেই অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর ব্যান্ডেজ খুলুন। হালকা গরম জল এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান দিয়ে আলতো করে জায়গাটি ধুয়ে নিন। ঘষবেন না।
* ময়শ্চারাইজার ব্যবহার: ত্বক শুষ্ক হতে দেবেন না। শিল্পী দ্বারা অনুমোদিত ট্যাটু লোশন বা পেট্রোলিয়াম জেলি দিনে ২-৩ বার পাতলা স্তর করে লাগান।
* সূর্যের আলো ও জল থেকে দূরে থাকা: ট্যাটু পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত (সাধারণত ২ থেকে ৪ সপ্তাহ) সরাসরি কড়া রোদ এড়িয়ে চলুন। এছাড়া সুইমিং পুল, পুকুর বা সমুদ্রের জলে স্নান করা বন্ধ রাখুন, কারণ এতে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।
* চুলকানো বা চামড়া টানা যাবে না: ট্যাটু শুকানোর সময় চামড়া উঠতে পারে বা চুলকানি হতে পারে। কোনো অবস্থাতেই নখ দিয়ে চুলকাবেন না বা মরা চামড়া টেনে তুলবেন না। এতে ট্যাটুর নকশা নষ্ট হতে পারে এবং ক্ষত তৈরি হতে পারে।