ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন দেশের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান। দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের মানেকশ শেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধে কেবলমাত্র প্রচলিত অস্ত্র বা পারমাণবিক হামলার ঝুঁকি নয়, বরং জৈবিক আক্রমণ ও তেজস্ক্রিয় দূষণের আশঙ্কাও সমানভাবে মাথায় রাখতে হবে।
সিডিএস জানান, কোভিড-১৯ মহামারির অভিজ্ঞতার পর স্পষ্ট হয়েছে যে, দুর্ঘটনা কিংবা পরিকল্পিতভাবে জৈবিক হামলার সম্ভাবনা অনেক বেড়েছে। এর ফলে বিপুল জনসংখ্যা আক্রান্ত হতে পারে। তাই প্রতিরক্ষা বাহিনী ও দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে এখন থেকেই এমন পরিস্থিতি সামলানোর জন্য বিশেষ কৌশল ও প্রস্তুতি নিতে হবে। তাঁর কথায়, ‘‘জৈবিক হুমকির মোকাবিলায় আলাদা প্রশিক্ষণ, নিয়ম ও প্রোটোকল গড়ে তোলা একান্ত জরুরি।’’
তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম হলেও তেজস্ক্রিয় বিকিরণ থেকে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। ফলে প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মীদের এমন পরিস্থিতিতে কাজ করার মানসিক ও প্রাযুক্তিক প্রস্তুতি থাকা উচিত।
এই প্রসঙ্গে জেনারেল চৌহান সামরিক নার্সিং সার্ভিসের ভূমিকাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দুর্যোগ, যুদ্ধক্ষেত্র বা মানবিক সংকটের সময়ে সামরিক নার্সরা দেশের জন্য অসামান্য অবদান রাখছেন। তাঁদের কল্যাণ ও সুরক্ষার দিকে বিশেষ নজর দেওয়াও সমান জরুরি।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সিডিএসের এই বার্তা ভারতের কৌশলগত ভাবনায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী দিনের লড়াই আর শুধু সীমান্তে গুলি-বোমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং অদৃশ্য জৈবিক অস্ত্র ও তেজস্ক্রিয় বিপর্যয়ের সম্ভাবনাও বাড়ছে। তাই এখন থেকেই প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পারমাণবিক গবেষণা সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলার উপর জোর দিচ্ছে সেনা কর্তৃপক্ষ।
