নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের রেশ কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে ফের নতুন করে নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে নিম্নচাপটি আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছে অবস্থান করছে এবং ধীরে ধীরে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগোচ্ছে। মৌসম ভবন জানিয়েছে, এই পথে এগোনোর সময় আরও শক্তি সঞ্চয় করে আগামী ২ নভেম্বর, সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ গভীর নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে এটি। তবে কখন স্থলভাগে প্রবেশ করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ইসরোর ইনস্যাট-৩ডিএস উপগ্রহের ছবিতে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সংলগ্ন এলাকায় সুস্পষ্ট নিম্নচাপ অঞ্চল ধরা পড়েছে। মৌসম ভবনের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার এটি দক্ষিণ আন্দামান সাগরে ছিল এবং এর অভিমুখ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে। আগামী ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপ এবং পরে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এর সঙ্গে থাকা ঘূর্ণাবর্তটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫.৮ কিলোমিটার উঁচু পর্যন্ত বিস্তৃত।
ভুবনেশ্বরের আবহাওয়া দফতরের ডিরেক্টর মনোরমা মোহান্তি জানিয়েছেন, নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম ও পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে এবং একই অঞ্চলে আরও শক্তিশালী হবে।
আপাতত এই নিম্নচাপের সরাসরি প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা কম। মূল প্রভাব পড়বে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলে, যেখানে ঝড়বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। তবে মৌসম ভবনের এক কর্তার মতে, এর প্রভাব ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের মতো তীব্র নাও হতে পারে।
যদিও সরাসরি প্রভাব না থাকলেও বাংলায় এর পরোক্ষ প্রভাবে বৃষ্টি হবে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, রবিবার সকাল থেকেই দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। দুই ২৪ পরগনা, কলকাতা, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় বৃষ্টির পরিমাণ বেশি থাকবে, সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। সোম ও মঙ্গলবার বৃষ্টি চললেও পরিমাণ কমবে এবং বুধবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে আবহাওয়া মূলত শুষ্ক হবে।
উত্তরবঙ্গেও আগামী চার-পাঁচ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত সব জেলাতেই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা। বুধবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড় অর্ণব শক্তি হারিয়ে এখন সাধারণ নিম্নচাপ হিসেবে উত্তর ছত্তিশগড় ও সংলগ্ন পূর্ব মধ্যপ্রদেশের উপর অবস্থান করছে। তার মধ্যেই নতুন এই নিম্নচাপ নিয়ে নজরদারি বাড়িয়েছে আবহাওয়া দফতর।