অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: নির্বাচন কমিশনের অন্দরে ক্ষমতার টানাপোড়েনের আবহেই ফের বড় প্রশাসনিক রদবদল করল কমিশন। গত ৪ নভেম্বর জারি করা নতুন কাজ বণ্টনের নির্দেশিকায় আইটি বিভাগের শীর্ষ আধিকারিকের কাজের উপর নজরদারির জন্য একজন সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।
কমিশন সূত্রে খবর, এই নির্দেশিকাকে ‘সর্বসম্মত যৌথ বণ্টন ব্যবস্থা’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে এই রদবদল এমন সময়ে এল, যখন কমিশনের অন্দরে মতবিরোধ নিয়ে জুলাই মাস থেকেই বিতর্ক অব্যাহত।
কী বদল হল?
নতুন ব্যবস্থায় আইটি বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খান্না এখন থেকে কাজ করবেন সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার পবন কুমার শর্মার অধীনে। আইটি, আইসিটি এবং জন-অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত সব ফাইল তাঁকে পবন শর্মার মাধ্যমেই পাঠাতে হবে। পবন শর্মার হাতে এছাড়াও থাকছে রাজনৈতিক দল, নির্বাচনী ব্যয় নীতি, অবজারভার বিভাগ এবং উত্তর-পূর্ব, পূর্ব ও দক্ষিণের বেশ কয়েকটি জোনের দায়িত্ব।
অন্যদিকে সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার মনীশ গর্গের হাতে থাকছে নির্বাচনী পরিকল্পনা, ইভিএম এবং ইলেকশন ডাটাবেস ম্যানেজমেন্ট। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড়ের মতো বড় রাজ্যগুলির দায়িত্বও থাকছে তাঁর কাছেই। তাঁকে সহায়তা করবেন ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার প্রকাশ রাজপুরোহিত। প্রশাসনিক কাজ দেখবেন ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার ভানু প্রকাশ ইয়েতুরু।
কেন এই নির্দেশিকা তাৎপর্যপূর্ণ?
গত জুলাই মাসে কাজ বণ্টন নিয়ে বিতর্কিত এক নির্দেশিকা ঘিরেই কমিশনের অন্দরের বিরোধ সামনে এসেছিল। অভিযোগ উঠেছিল, আলোচনা ছাড়াই সিনিয়র অফিসারদের কাজের পরিধি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই ঘটনায় দুই নির্বাচন কমিশনার ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি পর্যন্ত লিখেছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়।
যদিও কমিশন পরে সুপ্রিম কোর্টে জানায়, সেই নির্দেশিকা কার্যকরই হয়নি এবং পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সব সিদ্ধান্ত নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়েছে বলে দাবি কমিশনের। এবারের নির্দেশিকাকে সেই বিতর্কের পর নতুন করে ভারসাম্য ফেরানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
আইটি নিয়ে কেন বিতর্ক?
ভোটার তালিকা নিয়ে আইটি পরিকাঠামো কেন্দ্রীকরণ এবং সফটওয়্যারে বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিতর্কের মুখে রয়েছে কমিশনের আইটি বিভাগ। অভিযোগ, রাজ্যের নির্বাচনী রেজিস্ট্রেশন আধিকারিকদের ভোটার তালিকায় সংযোজন-বিয়োজনের ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে। কমিশন অবশ্য এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে।
কমিশনের অন্দরের এই টানাপোড়েনের মধ্যেই বাইরে রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়ছে। ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে সরব হয়েছে বিরোধী দল এবং একাধিক সংগঠন। দিল্লিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ চলছে। অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা ঢাকতেই বিরোধীরা নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক সংস্থাকে নিশানা করছে।