ওঙ্কার ডেস্ক: এশিয়া কাপ ২০২৫–এর মঞ্চে আবারও ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হতে চলেছে। বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ সুপার ফোর ম্যাচে বাংলাদেশকে হারিয়ে পাকিস্তান ফাইনালে জায়গা পাকা করেছে পাকিস্তান। ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখিয়েছে সালমান আলি আঘা দল। ব্যাট হাতে শান মাসুদ ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের জুটি দলকে শক্ত ভিত দিলেও পরে শেষ দিকে শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে ফেলে দেয়। শেষ পর্যন্ত তুলনামূলক স্বচ্ছন্দ জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান।
অন্যদিকে, আগেই ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে রেখেছিল ভারত। সুর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে টিম ইন্ডিয়া এবারের টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে নজর কেড়েছে। ব্যাটিংয়ে শুভমন গিল, বিরাট কোহলি এবং সূর্যকুমার যাদব রান তুলেছেন সহজে, বোলিংয়ে জসপ্রীত বুমরা, মোহাম্মদ সিরাজ ও রবীন্দ্র জাদেজা প্রতিপক্ষকে নিয়মিত সমস্যায় ফেলেছেন। ফলে ফাইনালের মঞ্চে ভারতকে হারানো সহজ হবে না বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।
ক্রিকেট দুনিয়ায় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা, বাড়তি চাপ। এই দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, সামরিক সম্পর্ক জটিল হলেও ক্রিকেট মাঠে লড়াই সর্বদা ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। দর্শকদের আবেগ, খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতি এবং ম্যাচ চলাকালীন এক একটি মুহূর্ত গোটা বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে যায়। বিশেষ করে এশিয়া কাপে এই দুই দলের ফাইনাল হওয়ায় আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে গেছে। সম্প্রতি ভারত পাকিস্তান ম্যাচে পাকিস্তানি খেলোয়ার দের সঙ্গে হাত না মেলানোর ঘটনা চরম বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল ক্রিকেট মহলে। ভারতীয় অধিনায়ক সুর্যকুমার যাদব জানিয়েছিলেন গত এপ্রিল মাসে কাশ্মীরের পেহেলগামে পাকিস্তানি মদতপুষ্ট জঙ্গী হামালার প্রতিবাদে ভারতীয় ক্রিকেট দল করমর্দনে প্রত্যাখান করেছিল।
ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে। ভারত-পাকিস্তান লড়াই সরাসরি দেখার জন্য টিকিট বিক্রিতে ইতিমধ্যেই হুড়োহুড়ি শুরু হয়েছে। দুই দেশের সমর্থকদের পাশাপাশি বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ক্রিকেট ভক্তরা এই মহারণের সাক্ষী হতে চাইছেন। কে শেষ হাসি হাসবে, তা নির্ভর করবে সেই দিনের পারফরম্যান্সের উপর, কিন্তু একটা বিষয় নিশ্চিত—এশিয়া কাপের ফাইনাল মঞ্চে ভারত-পাকিস্তানের এই লড়াই ক্রিকেট ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
