শীতের মরশুমে বড়দের পাশাপাশি শিশুদেরও নানা ধরনের শারীরিক সমস্যায় ভুগতে দেখা যায়। সর্দি, কাশি, নাক বন্ধ, গলাব্যথা কিংবা জ্বর—এই cসময় শিশুদের মধ্যে এমন উপসর্গ প্রায়ই দেখা যায়। বিশেষ করে সদ্যোজাত শিশু এবং পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো এবং শিশুদের সুস্থ রাখা অনেকটাই সম্ভব।
কী ধরণের পোশাক পড়াবেন
শীতকালে শিশুদের শরীর গরম রাখা জরুরি। তবে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত মোটা পোশাক পরিয়ে রাখাও ঠিক নয়। আবহাওয়া অনুযায়ী একাধিক পাতলা পোশাক পরানো যেতে পারে, যাতে প্রয়োজন হলে একটি স্তর খুলে দেওয়া যায়। বাইরে বেরোনোর সময় কান, মাথা ও হাত ঢেকে রাখার জন্য টুপি এবং প্রয়োজনমতো গ্লাভস ব্যবহার করা যেতে পারে। শিশুর ঘাম হচ্ছে কি না, হাত-পা অস্বাভাবিক ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। সদ্যোজাত শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে, যাতে অতিরিক্ত গরমে তাদের শরীর ঘেমে না যায়।
হাত ধোয়ার অভ্যেস গড়ে তুলুন।
শিশুদের ঠান্ডা লাগার অন্যতম কারণ বিভিন্ন ভাইরাসের সংক্রমণ। তাই বাইরে থেকে বাড়ি ফেরার পর, খাবার খাওয়ার আগে এবং নাক পরিষ্কার করার পরে সাবান ও জল দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। ছোট শিশুরা বারবার হাত মুখে দেয় বা চোখ-নাক স্পর্শ করে। ফলে অপরিষ্কার হাতের মাধ্যমে জীবাণু শরীরে প্রবেশ করতে পারে। পরিবারের কারও সর্দি-কাশি হলে শিশুর থেকে একটি দূরত্ব বজায় রাখুন
ঘর পরিস্কার এবং বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন
শীতকালে ঠান্ডা এড়াতে অনেকেই দরজা-জানলা বন্ধ করে রাখেন। কিন্তু ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না করলে শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই আবহাওয়া অনুকূল থাকলে ঘরে কিছু সময়ের জন্য জানলা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন। ঘরে ধূমপান করা, ধূপের অতিরিক্ত ধোঁয়া কিংবা কয়লা ও কাঠ পুড়িয়ে ঘর গরম করার মতো অভ্যাস এড়িয়ে চলুন।
কোন ধরণের খাবার আর পানীয় দেবেন?
শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সুষম খাবারের গুরুত্ব অপরিসীম। বয়স অনুযায়ী ফল, শাকসবজি, ডাল, ডিম, মাছ, দুধ এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো যেতে পারে। ছয় মাসের কম বয়সি শিশুর ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বুকের দুধই প্রধান খাবার। ছয় মাসের পর বয়সোপযোগী পরিপূরক খাবারের পাশাপাশি বুকের দুধ চালিয়ে যাওয়া যায়। বড় শিশুদের পর্যাপ্ত জল এবং উষ্ণ তরল খাবার দেওয়া যেতে পারে। তবে এক বছরের কম বয়সি শিশুকে মধু দেওয়া যাবে না।
পর্যাপ্ত ঘুমের দিকে নজর রাখুন।শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন। বয়স অনুযায়ী নির্দিষ্ট ঘুমের রুটিন তৈরি করুন। খুব ঠান্ডা আবহাওয়ায় বাইরে দীর্ঘক্ষণ থাকা এড়িয়ে চলুন। তবে আবহাওয়া অনুকূল থাকলে উপযুক্ত পোশাক পরিয়ে কিছু সময় বাইরে খেলাধুলা করতে দেওয়া যায়। অসুস্থ বোধ করলে শিশুকে বিশ্রাম নিতে দিন। মনে রাখবেন, ঠান্ডা আবহাওয়ায় বাইরে বেরোলেই সর্দি হয় না—সাধারণ সর্দি মূলত ভাইরাসের সংক্রমণে হয়।
টিকাকরণ ও চিকিৎসকের পরামর্শ
শিশুর বয়স অনুযায়ী সমস্ত প্রয়োজনীয় টিকা সময়মতো দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে। শিশুর সর্দি-কাশি হলে নিজের ইচ্ছায় অ্যান্টিবায়োটিক, কাশির সিরাপ বা ঠান্ডার ওষুধ দেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ ব্যবহার বিপজ্জনক হতে পারে।
শিশুর শ্বাস নিতে কষ্ট হলে, বুকের নিচের অংশ শ্বাস নেওয়ার সময় বসে গেলে, ঠোঁট নীলচে হয়ে গেলে, খেতে না পারলে বা অস্বাভাবিক নিস্তেজ হয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। তিন মাসের কম বয়সি শিশুর শরীরের তাপমাত্রা অত্যধিক হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।