অর্পিতা মুখার্জী: চারধামের অন্যতম বদ্রীনাথ নিয়ে চাঞ্চল্যকর সতর্কবার্তা সামনে এল। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, শহরের উপরে থাকা ঝুলে থাকা হিমবাহ ভেঙে পড়লে বড় বিপর্যয় হতে পারে।
সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় বদ্রীনাথের চারপাশের তিনটি হ্যাংগিং গ্লেসিয়ার পরীক্ষা করা হয়। স্যাটেলাইট ডেটা ও র্যাপিড মাস মুভমেন্ট সিমুলেশন পদ্ধতিতে ধসের রুট, গতি ও প্রভাব মাপেন গবেষকরা। তাঁদের পর্যবেক্ষণ, কতটা বরফ ভাঙছে, ঢাল কতটা খাড়া এবং নিচের ভূমিরূপ কেমন, তার উপরেই ধসের তীব্রতা নির্ভর করবে।
এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ২ নম্বর সাইট। সেখান থেকে ধস নামলে প্রায় চারশো ঘরবাড়ি তছনছ হওয়ার আশঙ্কা। একই সঙ্গে সাড়ে তিন কিলোমিটারের কাছাকাছি সড়ক যোগাযোগ, প্রায় চার হেক্টর চাষের জমি, পনেরো হেক্টরের বেশি জঙ্গল এলাকা বিপদের মধ্যে পড়বে। তালিকায় রয়েছে হেলিপ্যাড ও গাড়ি পার্কিং-এর মতো জরুরি পরিকাঠামোও। ফলে বড় দুর্ঘটনা ঘটলে উদ্ধারকাজ ও যাতায়াত দুই-ই থমকে যাওয়ার ভয় থাকছে।
গবেষকরা জানাচ্ছেন, ধসের গতি সামান্য বাড়লেও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনেকটাই বাড়ে। কম গতির তুলনায় বেশি গতিতে ধসের উচ্চতা প্রায় ২ থেকে ৭ শতাংশ, চাপ প্রায় ৩ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হতে পারে। বরফ জমার পরিমাণ ও গতি দুই-ই বাড়ে। আর ঢাল অনুকূল হলে অল্প বরফেও ধস অনেক দূর গড়িয়ে যেতে পারে।
যেহেতু বছরে লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রী বদ্রীনাথে যান, তাই এখনই প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিটি বিপজ্জনক পয়েন্টের আলাদা করে বিস্তারিত জরিপ, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নতুন নির্মাণে লাগাম এবং স্থানীয় মানুষ ও যাত্রীদের সচেতন করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে রিপোর্টে।