নয়ন বিশ্বাস রকি, সাবেক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নেতা
২৩ জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। যদিও এ বছর ভিন্ন রকম পরিবেশ পরিস্থিতি বাংলাদেশে। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে নেতৃত্ব দানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবার। এদেশের বৃহত্তম ও সর্বপ্রাচীন ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। গত সাড়ে সাত দশক ধরে আওয়ামী লীগের পথ চলা ছিল গৌরবোজ্জ্বল। দীর্ঘ এই পথ চলায় সংগঠনটি বাঙালি জাতির অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সংগ্রামের সকল প্রতিবন্ধকতা জয় করে সফলতার মুকুটে সংযুক্ত করেছে একের পরের পালক। পৃথিবীর খুব কম সংগঠন আছে যারা ধারাবাহিক সাফল্য নিয়ে ৭৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করার সৌভাগ্য অর্জন করেছে। অনুরূপভাবে গৌরব, সাফল্য ও অর্জনের সঙ্গে আওয়ামী লীগ তার প্রতিষ্ঠার রজত জয়ন্তী ও সুবর্ণজয়ন্তী পালনের বিরল সৌভাগ্যের অধিকারী।
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরনো ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রোজ গার্ডেনে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এই রাজনৈতিক দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কারাগারে আটক ছিলেন। তাকে যুগ্মসাধারণ সম্পাদক করা হয়। কেন্দ্রীয়ভাবে নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ করা হলেও পরবর্তী সময়ে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক আদর্শের অধিকতর প্রতিফলন ঘটানোর জন্য এরই নাম আওয়ামী লীগ করা হয়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর ১৯৫৫ সালে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে দলের নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। আর, পূর্ব পাকিস্তান শব্দ দুটি বাদ পড়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধের সময় থেকে। বাংলাদেশে স্বাধীনতা ঘোষণা করার পর থেকে প্রবাসী সরকারের সব কাগজপত্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নাম ব্যবহার শুরু হয়। ১৯৭০ কাল থেকে এই দলের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা। পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যতম প্রাচীন এই সংগঠনটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ সহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে এদেশের গণমানুষের সংগঠনে পরিণত হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে জন্যই আওয়ামী লীগকে’ ৭০- এর নির্বাচনে পূর্ব-বাংলার মানুষ তাদের মুক্তির ম্যান্ডেট দিয়েছিল। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই ভূখণ্ডে প্রতিটি প্রাপ্তি ও অর্জন সবই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই হয়েছে। মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বাঙালির অর্জন এবং বাংলাদেশের সকল উন্নয়নের মূলেই রয়েছে আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ এবং বিশিষ্টজনরাও মনে করেন, আওয়ামী লীগের অর্জন পাকিস্তান আমলের গণতান্ত্রিক অর্জন। জাতির জন্য যখন যা প্রয়োজন মনে করেছে, সেটি বাস্তবায়ন করেছে দলটি। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, সব আন্দোলন সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশ গঠনে সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করেছে আওয়ামী লীগ। স্বাধীনতার পর থেকে দেশ বিরোধীদের ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে এসে স্বৈরাচার শাসনের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। আওয়ামী লীগ দেশের অন্যতম পুরনো, অসাম্প্রদায়িক, সর্ববৃহৎ ও বাঙালির জাতীয় মুক্তির সংগ্রামে নেতৃত্ব দানকারী রাজনৈতিক দল। আর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার কাজ প্রথম শুরু করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এর আগে বঙ্গবন্ধু শুরুতেই পাকিস্তানে একটি অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল গঠনের কথা ভাবছিলেন। তিনি মনে করতেন পাকিস্তান হয়ে যাওয়ার পর সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের আর দরকার নাই। একটা অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হবে, যার একটা সুষ্ঠু ম্যানুফেস্টো থাকবে। এই ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু তার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে লেখেন, আমি মনে করেছিলাম, পাকিস্তান হয়ে গেছে সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের দরকার নাই। এটা অসম্প্রদায়িক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান একটা সুস্থ ম্যানিফেস্টো থাকবে। ভাবলাম, সময় এখনো আসে নাই। তাই যারা বাইরে আছেন তারা চিন্তাভাবনা করেই করেছেন। ৫২-র ভাষা আন্দোলন, ‘৫৪-র যুক্ত ফ্রন্ট নির্বাচন, আয়ুর্বেদিক সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন। ৬৪-র দাঙ্গার পর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা, ৬৬- এর 6 দফা আন্দোলন ও ৬৯-এর গণ অভূত্থানের পথ বেয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ২৪ বছরের আপোষহীন সংগ্রাম – লড়াই এবং ১৯৭১ সালের নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ দাদা সহস্র জন্য যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ওই বছরের ১৬ ই ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের প্রতিষ্ঠিত হয় বাঙালির হাজার বছরের লালিত স্বপ্নের ফসল স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্যে দিয়ে আওয়ামীলীগকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার ব্যর্থ চেষ্টা হলেও দীর্ঘ একুশ বছর লড়াই সংগ্রামের মাধ্যমে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জয়ী হয়ে ২৩ জুন দলটি ক্ষমতায় ফিরে আসে। পরবর্তীতে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের অপশাসন, নির্যাতন, দমন নিপীড়নের বিরুদ্ধে এবং গণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আওয়ামী লীগ, দিন বদলের সনদ ঘোষণা দিয়ে ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে পুনরায় বিজয় অর্জন করে এবং সেই থেকে টানা চারবার নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ সরকার জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচারের রায় কার্যকর করেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যুদ্ধপরাধীদের বিচার করেছে এবং রায় ও কার্যকর করা হচ্ছে। সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পথ বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও গত ১৫ বছরের দেশের অভাবনীয় উন্নয়ন সাধন করে একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে পর্যন্ত উন্নয়নের সফল প্রাপ্তি নিশ্চিত করেছে। ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনের সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা। দীর্ঘ ৬ বছরের নির্বাসন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর কন্যার শেখ হাসিনা স্বদেশী প্রত্যাবর্তন করেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সংগঠিত হয়। জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাঙালি জাতির হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার পূর্ণ উদ্ধারের এক নবতর সংগ্রামের পথে যাত্রা শুরু করে আওয়ামী লীগ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরে শেখ হাসিনা গত ৪ দশকেরও বেশি সময় ধরে এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্ব এই দলের নেতা কর্মীদের প্রেরণার উৎস এবং তার সংগঠনকে করেছে সমৃদ্ধ। শেখ হাসিনার আপসহীন, সুদক্ষ বলিষ্ঠ নেতৃত্বে স্বৈরতন্ত্রের চৌহদ্দি পেরিয়ে গণতন্ত্রের স্বাদ পেয়েছিল বাংলার জনগণ। খালের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আজ ডিজিটাল বাংলাদেশের পথ পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের স্বাপ্নিক অভিযাত্রী আওয়ামী লীগ।
বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পদ পরিক্রমায় অনেক অশ্রু ত্যাগ আর রক্তের বিনিময়ে বাঙালি জাতি ফিরে পায় ভাত ও ভোটের অধিকার। দীর্ঘ স্বৈরশাসনের অবসানের আর যদি শুরু হয় গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা। আজ বঙ্গবন্ধুর কন্যা, সুযোগ্য নেতৃত্বে ও সুযোগ্য রাষ্ট্র পরিচালনায় সুশাসন, স্থিতিশীল অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্যের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, উন্নয়নের গতিশীলতা, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষার প্রসার, স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করন, কর্মসংস্থান, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, খাদ্য নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়ন সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুগান্তকারী উন্নয়নের ফলে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ইতি মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বল্প উন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রীয় উন্নীত হয়েছে। আওয়ামী লীগের ইতিহাস, বাঙালি জাতির গৌরব উজ্জ্বল অর্জন সংগ্রামের ইতিহাস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সহ বাঙ্গালী জাতির যা কিছু শ্রেষ্ঠ অর্জন, তার মূলে রয়েছে জনগণের এই প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব। জন্ম লগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শক্তির উৎস জনগণ। শক্তির উৎস সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা কর্মীরা। দেশীয় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে স্বাধীন সোনার ডিজিটাল স্মার্ট বাংলাদেশকে জিম্মি করে রেখেছে দেশের মানুষ বাঁচার জন্য হাহাকার করছে দ্রব্যমূল্যের উদ্যগতি কর্মসংস্থান হারিয়ে যাচ্ছে, যারা অপরাধ করেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না এই হল অধ্যাপক মোঃ ইউনুস এর নতুন বাংলাদেশ। দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছেন মোঃ ইউনুস । মোহাম্মদ ইউনুছের জাতীয় ঐক্য নামে বাংলাদেশের নাটক চলছে, বাংলাদেশের মানুষকে বিভক্ত করেছে। স্মৃতি প্রবণ জাতি কখনো সামনের দিকে এগোতে পারে না। পৃথিবীর সব সভ্য ও অগ্রসর জাতি সর্বপ্রকারে পূর্বপুরুষদের স্মৃতি সংরক্ষণের চেষ্টা করে। পূর্বপুরুষদের স্মৃতি জাতির ইতিহাস। সেই ইতিহাসের আলোয় সামনে এগিয়ে আনার পথ দেখায়। বাংলাদেশের ইতিহাস জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মের স্মৃতির সঙ্গে এমন নিবিড় ভাবে জড়িত যে, আগে ছাড়া এই রাষ্ট্রের ইতিহাস কল্পনাই করা যায় না। ভারত ভাগের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টির পর থেকেই ন্যায্য শাসনব্যবস্থার দাবিতে কন্ঠটি ছিল তারই। পরবর্তী ২৩ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কার্যক্রম ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করেছেন তিনিই। তাই নেতা মোদের শেখ মুজিব কথাটি রাজনৈতিক স্লোগানের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ নয়, পূর্ব বাংলার মানুষকে বৈষম্যমূলক ও অগণতান্ত্রিক আর্থ-রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং কার্যত উপনিবেশিক শাসন শোষণ থেকে মুক্ত করার লড়াই সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা নেতা তিনিই: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
(প্রতিবেদনটি লেখকের একান্তই ব্যক্তিগত উপলব্ধি ও অভিজ্ঞতা থেকে। এ বিষয়ে ওঙ্কার বাংলা কোনো ভাবে দায়বদ্ধ নয়।)
