ওঙ্কার ডেস্ক : বাংলাদেশের কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্যের মধ্যে যেন ওৎ পেতে থাকে মৃত্যুর হাতছানি। নিয়তির এই পরিহাস কখন যে মুছে দেবে পর্যটকের হাসি তার কোনো নিশ্চয়য়তা নেই। এবছর প্রথম ৬ মাসেই এই সৈকতে স্নান করতে গিয়ে কমপক্ষে ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকারি ভাবে জানা গেছে।
সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বাংলাদেশ সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ (সিআইপিআরবি) যে সর্বশেষ তথ্য দিয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত কক্সবাজারে কমপক্ষে ৬২ জন ডুবে মারা গেছেন, যার মধ্যে ১২ জন বিভিন্ন জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকত পয়েন্টে মারা গেছেন।
সিআইপিআরবি কর্মকর্তারা কক্সবাজারের পাবলিক সমুদ্র সৈকতে আরও ভাল তদারকি এবং শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন। কারণ বাংলাদেশে বিশেষ ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের সংখ্যা এখানে ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।
তারা কক্সবাজারে ছুটি কাটাতে আসা মানুষদের বর্ষার মরশুমে স্নানের সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। ভ্রমণার্থীরা যাতে কোনো অবস্থায় ঝুঁকি না নেন তা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে সিআইপিআরবি। বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র সৈকতের বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারের এই বিপদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এই সংস্থা।
এর আগে ১৬ জুলাই কক্সবাজারের শৈবাল পয়েন্টে সমুদ্রে স্নান করার সময় ডুবে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়। নিহতের নাম রায়ান নূর আবু সামিম, সে শহরের বৈদ্যঘোনা এলাকার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। বাংলাদেশ ভিত্তিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে কক্সবাজার সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ত।
সৈকতের লাইফগার্ড ওসমান গণি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “স্কুল মাঠে ফুটবল খেলার পর সকাল ১১টা নাগাদ ৭-৮ জন শিক্ষার্থীর একটি দল শৈবাল পয়েন্টে স্নান করতে যায়। সৈকতের ওই অংশে কোনও লাইফগার্ড মোতায়েন করা হয়নি।” এর আগে ৮ জুলাই, তিনজন শিক্ষার্থী ঢেউয়ের কবলে ভেসে যায়। দুই শিক্ষার্থীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে, তৃতীয় নিহত অরিত্র হাসানের মৃতদেহ এখনও নিখোঁজ রয়েছে।
