ওঙ্কার ডেস্ক: দীর্ঘ বিতর্ক, ঝামেলার পর অবশেষে বিপিএল ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবে বাংলাদেশের ক্রিকেট দল। বৃহস্পতিবার নির্ধারিত বিপিএল-এর ম্যাচটি খেলা হবে শুক্রবার, এমনটাই জানিয়েছে বাংলাদেশী ক্রিকেট বোর্ড। বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক তামাম ইকবাল এবং জাতীয় দলকে নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ডিরেক্টর নামজুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যের পর ব্যপক ভাবে উত্তেজনা ছড়ায় ক্রেকেট মহলে। বাংলাদেশের জাতীয় দল দাবী করে যতক্ষণ না পর্যন্ত নামজুল নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছে বাংলাদেশী দল কোনো রকম ক্রিকেট খেলতে মাঠে নামবে না।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক এবং ফিনান্স কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলামকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেই খেলোয়াড়েরা তাঁদের চলমান বয়কট প্রত্যাহার করেন। ফলে ফের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট।
বিগত কয়েক মাস ধরেই ভারত বাংলাদেশের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতির আঁচ পরেছিল দুই দেশের ক্রিকেটের উপরও। এই মাঝেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক তামাম ইকবালকে ভারতের দালাল বলে অবিহিত করেন নাজমুল। এতে থেমে থাকেননি তিনি। নাজমুল বাংলাদেশ ক্রিকেট টীমের পেশাদারিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলে ভাংলাদেশ যদি তি-২০ না খেলে তাতে দেশের স্বার্থে তেমন কিছু প্রভাব পরবে না। এই বিতর্কিত মন্তব্যে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মর্যাদা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ক্রিকেটারেরা। ক্রিকিটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বোর্ডের কাছে স্পষ্ট দাবি তোলে, ওই কর্তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা না নিলে তারা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগসহ সমস্ত ঘরোয়া ক্রিকেট বয়কট করতে বাধ্য হবেন। এর জেরে নির্ধারিত ম্যাচে মাঠে নামতে অস্বীকার করেন একাধিক ক্রিকেটার, যা টুর্নামেন্টের সূচি ও ভাবমূর্তিকে বড় ধাক্কা দেয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত উদ্যোগী হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। খেলোয়াড় প্রতিনিধি ও বোর্ড কর্তাদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা চলে। অবশেষে বোর্ড সিদ্ধান্ত নেয়, এম নাজমুল ইসলামকে ফিনান্স কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের পরেই খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাঁদের মূল দাবি পূরণ হয়েছে এবং ক্রিকেটারদের সম্মান রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে।
এরপরই ক্রিকেটাররা বয়কট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন এবং বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে ফের মাঠে নামতে সম্মত হন। বোর্ডের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, যে ম্যাচগুলি স্থগিত হয়েছিল সেগুলি নতুন করে সূচিবদ্ধ করার চেষ্টা চলছে, যাতে টুর্নামেন্ট নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়। সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর বোর্ড ও ক্রিকেটারদের মধ্যে যোগাযোগ আরও মজবুত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।
এই সংকট আপাতত কাটলেও, খেলোয়াড়দের অধিকার ও সম্মান সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতি না তৈরি হয়, সে জন্য বোর্ডের ভিতরে কাঠামোগত পরিবর্তন ও স্বচ্ছতা আনার দাবি আরও জোরালো হয়েছে। আপাতত অবশ্য বয়কট প্রত্যাহারের খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।
