ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশে ফের জাতীয় নির্বাচনের দিন ঘোষণা করলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। মঙ্গলবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ইউনুস স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই ভাষণ ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা ছিল। জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির দিনে এই ঘোষণা যে তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এদিন বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ২০ মিনিটে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে ইউনুস বলেন, “এবার সর্বশেষ দায়িত্ব পালনের পালা। নির্বাচিত সরকারের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে”। তার আগে বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টার কথায় উঠে আসে তাঁর সরকারের তিনটি মূল লক্ষ্য সংস্কার, বিচার এবং অবাধ জাতীয় নির্বাচন আয়োজন। এই তিন কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করাই এখন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কর্তব্য বলে জানান ইউনুস।
এদিনের ভাষণের পরই স্পষ্ট হয়ে যায়, নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, খুব শীঘ্রই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে একটি চিঠি পাঠানো হবে, যেখানে অনুরোধ জানানো হবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই যেন জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করা হয়।
এই ঘোষণার প্রেক্ষিতে দেশের রাজনৈতিক বিরোধী শিবিরও সরব হয়েছে। গত শুক্রবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির বলেন, “এখন আমার সমস্যা হলে আমার তো যাওয়ারই জায়গা নেই। কার কাছে যাব? কোনো এমপি নেই তো। আমার কথা কে সংসদে বলবে? লোক নেই। কে সংসদে আমার দাবি নিয়ে কথা বলবে? লোক নেই। এ জন্যই আমাদের দ্রুত নির্বাচন দরকার, দ্রুত সংসদ দরকার”।
হাসিনার দেশ ছাড়ার পর দেশের পরিস্থিতি জটিল হতে শুরু করে। ব্যাপক হারে বাড়তে থাকে চুরি, ছিনতায় খুনের মত অপরাধমুলক কাজ। দেশের সাংবিধানিক পরিকাঠামোতে গলদ থাকলে দেশের অবস্থা কেমন হয় সেটা বর্তমান বাংলাদেশেকে দেখলেই বোঝা যায়। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন, সহিংসতা ও সাংবিধানিক সংকটের মধ্যেই এই নির্বাচন ঘিরে আশা জেগেছে সাধারণ মানুষের মনে। বিশেষ করে একটি নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতায় বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে বহু মানুষ। এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন কবে নির্দিষ্ট দিন ঘোষণা করে এবং সমস্ত রাজনৈতিক দল সেই নির্বাচনে কতটা সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। তবে ততদিন পর্যন্ত বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তাপ প্রশমিত হবে না বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
