নয়ন বিশ্বাস রকি
বাংলাদেশের জনগণের মনে আজ একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। এই সরকার কী সমঝোতার সরকার, নাকি মুচলেকার সরকার ? সরকারি দল আর বিরোধী দল বলতে আদৌ কিছু অবশিষ্ট আছে কি ? দুই পক্ষের বক্তব্য, প্রতিক্রিয়া আর আলোচনা শুনলে মনে হয় এরা যেন একই মায়ের পেটের দুই ভাই। একসময় বিএনপি যা করেছিল, আজ তারই প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। রাজনীতির মাঠে জামাতকে নিয়ে যে হিসাব নিকাশ, তাতে স্পষ্ট হয় পুরনো সমীকরণ নতুন মোড়কে ফিরে এসেছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিয়ে। আজ রাষ্ট্রযন্ত্র নীরব কেন ? রাষ্ট্রের দায়িত্ব কি শুধু সরকারকে খুশি করা, নাকি জনগণের সেবা নিশ্চিত করা ? সংবিধান বলে রাষ্ট্র জনগণের। আমলা, পুলিশ, প্রশাসন সবার বেতন হয় জনগণের ট্যাক্সের টাকায়। তাহলে তাদের আনুগত্য কার প্রতি হবে? সরকারের প্রতি, নাকি রাষ্ট্রের প্রতি ?
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ভয়াবহ। চারিদিকে নৈরাজ্য আর অস্থিরতা। দ্রব্যমূল্যের আগুন, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, বেকারত্বের হাহাকার যেন মহামারীর রূপ নিয়েছে। এই মহামারীতে সরকারের নীরবতা কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না। নীরবতা মানেই সম্মতি। যখন জনগণ কাঁদে, তখন রাষ্ট্র যদি চুপ থাকে তাহলে সেই রাষ্ট্রযন্ত্রের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।
ইতিহাস সাক্ষী, মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। সমঝোতা হয় সমানে সমানে, আর মুচলেকা দেয় দুর্বল। জনগণ এখন জানতে চায়, এই সরকার কোন পথে হাঁটছে?
রাষ্ট্রযন্ত্রকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তারা কি দলীয় লাঠিয়াল হবে, নাকি জনগণের শেষ আশ্রয় হবে? মনে রাখতে হবে, সরকার আসে যায়। কিন্তু রাষ্ট্র থাকে, জনগণ থাকে। জনগণের আস্থা হারালে কোনো যন্ত্রই টেকে না।
সময় এখনও শেষ হয়ে যায়নি। নৈরাজ্য থামাতে হলে সরকারকে কথা বলতে হবে, আর রাষ্ট্রযন্ত্রকে কাজ করতে হবে। নিরপেক্ষতা আর জবাবদিহিতা ছাড়া এই অস্থিরতা কমবে না। জনগণ মুচলেকা নয়, সমাধান চায়।
মূল কথা: সরকারের শক্তি আসে জনগণের সম্মতি থেকে, ভয় দেখিয়ে নয়। রাষ্ট্রযন্ত্র যদি জনগণের না হয়, তাহলে সেই রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
লেখক বাংলাদেশের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সমাজসেবক