ওঙ্কার ডেস্ক: পড়শি দেশ বাংলাদেশে হু হু করে বাড়ছে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ও স্বাস্থ্য নজরদারি সংস্থা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, বাংলাদেশে এই ভাইরাস ঘটিত অসুখটি শিশুদের মধ্যে যে মাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছে তাতে ওই রোগের ভাইরাস সীমান্ত পেরিয়ে আশপাশের দেশকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। সে দেশে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে তিন শিশু এবং হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে এখনও পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হয়ে মোট ৪২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯৮ জন শিশুর। এই রোগের উপসর্গগুলি হল সংক্রামিত হওয়ার সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে প্রাথমিক উপসর্গগুলি দেখা দিতে শুরু করে। সেগুলি হল শরীর কাবু করা জ্বর, সর্দি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, কাশি এবং মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ। সেই পর্বে চিকিৎসা শুরু করা না হলে মাথায় ফুসকুড়ি হতে শুরু করে যা পরে গোটা শরীরে ছড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে গরম কালে এই রোগের ভাইরাস সবচেয়ে বেশি সংক্রামিত হয়। মূলত মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টীকাকরণের হার প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এর ফলেই প্রায় নির্মূল হয়ে যাওয়া অসুখ আবার ফিরে এসেছে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে প্রত্যেকের বয়স প্রায় ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুর সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। বাড়িতেও চিকিৎসা চলছে বহু শিশুর। সে দেশের শিশু হাসপাতালের বাইরে প্রচুর পরিমাণে শিশুদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। এমনকি হাসপাতালগুলিতে বেডের সংখ্যার ক্ষেত্রে ঘাটতি দেখা গেছে। ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতে এখনও পর্যন্ত এই রোগের প্রাদুর্ভাব ধরা পড়েছে। ফলে আক্রান্ত হয়েছে দেশের একানব্বই শতাংশ এলাকা। ঘরে ঘরে শিশুর বাবা-মা এবং আত্মীয় পরিজন চরম উৎকণ্ঠায় দিনযাপন করছেন। সব পাড়া মহল্লাতেই হামে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে জেরবার হচ্ছে পরিবার।