ওঙ্কার ডেস্ক: ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান তীব্রতার মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে এক নতুন কৌশলের প্রয়োগ শুরু করেছে ইউক্রেন। মানুষের বদলে ক্রমশ মেশিন ও রোবটকে সামনে পাঠানো হচ্ছে, যা আধুনিক যুদ্ধের ধরণকেই বদলে দিচ্ছে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রাণঘাতী পরিস্থিতিতে সেনাদের সরাসরি পাঠানোর পরিবর্তে দূরনিয়ন্ত্রিত যন্ত্র ব্যবহার করে অপারেশন চালানো হচ্ছে।
এই যন্ত্রগুলির মধ্যে রয়েছে আনম্যানড গ্রাউন্ড ভেহিকল বা ইউজিভি, যা দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। শুরুতে এগুলির ব্যবহার সীমাবদ্ধ ছিল উদ্ধারকাজ, সরবরাহ পৌঁছে দেওয়া এবং মাইন নিষ্ক্রিয় করার মতো কাজে। কিন্তু বর্তমানে এই প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করে সরাসরি যুদ্ধেও ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছু ইউজিভি অস্ত্র বহন করতে সক্ষম এবং শত্রুপক্ষের অবস্থানে হামলা চালাতে পারে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে মানুষের উপস্থিতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর দাবি, এই ধরনের রোবটিক প্রযুক্তির ব্যবহার তাদের কৌশলগতভাবে এগিয়ে দিচ্ছে। একদিকে যেমন সেনাদের প্রাণহানি কমানো যাচ্ছে, অন্যদিকে বিপজ্জনক অঞ্চলেও নির্ভয়ে অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে যেখানে ড্রোনের নজরদারি বা আর্টিলারি হামলার ঝুঁকি বেশি, সেখানে এই যন্ত্রগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।
কিছু ক্ষেত্রে এমনও দেখা গেছে, সম্পূর্ণভাবে ড্রোন ও স্থল রোবটের সাহায্যে অভিযান চালিয়ে শত্রুপক্ষের অবস্থান দখল করা হয়েছে। এমনকি কোনও মানব সেনা ছাড়াই শত্রুপক্ষকে পিছু হটতে বা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা হয়েছে। এই ধরনের ঘটনা আধুনিক যুদ্ধের এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে প্রযুক্তিই হয়ে উঠছে প্রধান অস্ত্র। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তির এখনও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কঠিন ভূখণ্ডে চলাচল, যন্ত্রের স্থায়িত্ব, শত্রুপক্ষের ইলেকট্রনিক হামলা থেকে সুরক্ষা এসব ক্ষেত্রে উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি দখল বজায় রাখা বা মানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের বিকল্প হিসেবে মেশিন পুরোপুরি কার্যকর নয়।