ওঙ্কার ডেস্ক: শেখ হাসিনার মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার পর থেকেই উত্তাল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের একাধিক জেলা। রায় প্রকাশের মুহূর্ত থেকে রাতভর এবং পরের দিন সকাল পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত যেমন মোহাম্মদপুর, মিরপুর, আজিমপুর, কারওয়ান বাজার এবং পুরনো ঢাকার কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণ, গুলিবর্ষণ এবং ভাঙচুরের খবর আসে। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বহু জায়গায় জনজীবন অস্থির হয়ে ওঠে, বন্ধ হয়ে যায় যানচলাচল, আতঙ্কে ঘরের বাইরে বেরোতে সাহস পাননি বহু সাধারণ মানুষ।
ঘটনাস্থল ঘুরে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বেশ কিছু এলাকায় আগে থেকেই বিস্ফোরক মজুত ছিল। রায় ঘোষণার পর পরিকল্পনা মতো কাঁচা বোমা ছোঁড়া হয় এবং সড়কে জটলা তৈরি করে আগুন লাগানোর চেষ্টা চলে। কারওয়ান বাজারে একাধিক মোটরবাইক পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঢাকার উপদেষ্টা সিয়াদা রিজওয়া হাসানের বাসভবনের সামনে রাতের অন্ধকারে বিস্ফোরণে ছিটকে পড়ে আশপাশের বহু জানালা। মিরপুরের একটি পুলিশ বক্সেও আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, দুষ্কৃতীদের একটি দল অন্তত তিনটি পেট্রোলবোমা ছুড়ে এলাকা তছনছ করেছে।
ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়েছে বিশৃঙ্খলা। কোথাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি, কোথাও আবার বিদ্বেষমূলক হামলার খবর মিলেছে। মূলত রাতের অন্ধকারে, পুলিশি টহল এড়িয়ে, দ্রুত আক্রমণ করে পালিয়ে যাওয়ার কৌশল ব্যবহৃত হয়েছে বলে নিরাপত্তা বাহিনীর ধারণা। বহু এলাকায় দোকানপাট আগেভাগে শাটার নামিয়ে দেয় ব্যবসায়ীরা। রাস্তা ফাঁকা হয়ে গেলে টহলদারির পরিমাণ বাড়ানো হয়, তবে আতঙ্ক কাটেনি স্থানীয়দের মধ্যে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আশঙ্কাজনক এলাকায় র্যাথপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তারা টহল দিচ্ছেন। অভিযোগ উঠলে বা আগুন লাগানোর চেষ্টা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় পুলিশ গুলি ছোঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে, তবে সঠিক হতাহতের সংখ্যা এখনও স্পষ্ট নয়।
রায়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল শেখ হাসিনার সমর্থক এবং কিছু বিরোধী সংগঠন। তাদের অভিযোগ, সরকার-বিরোধী রায় ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাত্মক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, বিচারের স্বচ্ছতার ওপর আঘাত এনে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে দুষ্কৃতীরা। রায়ের পরপরই সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো তথ্য এবং গুজব রটে যাওয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
এই অস্থিরতার ফলে রাজধানীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গণপরিবহন কমে গিয়েছে, অফিস ও স্কুলে উপস্থিতি নেমে এসেছে। হাসপাতালে জরুরি পরিষেবা বজায় থাকলেও রোগীদের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। রায়-পরবর্তী অস্থিরতার দাপটে দেশের বহু এলাকা কার্যত অচল হয়ে পড়ায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার আবহ আরও গভীর হয়েছে।
