ওঙ্কার ডেস্ক: দশ দিনের মাথায় ফের বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় হাই কমিশনারকে ডেকে পাঠালো বাংদেশের অন্তবর্তী সরকার। ঢাকার অন্তর্বর্তী সরকার ফের ভারতের হাই কমিশনারকে তলব করায় ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েনের ছবি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার ঢাকার বিদেশ মন্ত্রকে হাজির হতে বলা হয় ভারতের হাই কমিশনারকে। অল্প সময়ের ব্যবধানে এটি দ্বিতীয়বারের জন্য এমন কূটনৈতিক তলব, যা দুই দেশের বর্তমান সম্পর্কের সংবেদনশীলতার প্রেক্ষাপটে আরও জটল করে তুলেছে।
বাংলাদেশ সরকারের তরফে মূলত ভারতে অবস্থিত তাদের কূটনৈতিক মিশনগুলির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ঢাকার বক্তব্য, সাম্প্রতিক সময়ে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাই কমিশন এবং বিভিন্ন শহরের ভিসা সেন্টারের সামনে বিক্ষোভ, হুমকি ও অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সেই কারণেই ভারতের অবস্থান জানতে এবং কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে খবর। বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ স্পষ্ট করেছে যে, কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট দেশের দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক রীতিনীতি অনুযায়ী এই সুরক্ষা প্রোটকল অপরিহার্য। ঢাকার দাবি, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় সেই দায়িত্ব পালনে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এই বার্তাই ভারতের হাই কমিশনারের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে, ভারতের বিদেশমন্ত্রক রনধীর জয়সাওয়াল ঢাকার আনা সমস্ত অভযোগ খারিজ করে জানিয়েছে, ভারতে থাকা বাংলাদেশী হাই কমিশনাররা সুরক্ষিত আছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। তিনি আরও যোগ করেন, এই ঘটনাকে বাংলাদেশের কিছু ভারত বিদ্বেষী সংবাদ মাধ্যম এবং রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব অতিরঞ্জিত করে রাজনীতি করে চলেছে। এতে দুই দেশের চলমান সম্পর্ক আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এই ঘটনার পরেই কূটনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে, তবে কি বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ধরন নতুন করে ভাবছে। অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে কূটনৈতিক স্তরে কিছু পরিবর্তন বা সীমাবদ্ধতা আসতে পারে। যদিও এখনই সম্পর্ক ছিন্ন বা আনুষ্ঠানিকভাবে অবনমন করার কোনও সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।
এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পেছনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর দেশজুড়ে অস্থিরতা, প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছে। তার প্রভাব পড়ছে বিদেশনীতি ও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের উপরেও। ঢাকার ধারণা, এই পরিস্থিতিতে ভারতের মাটিতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলি তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
ভারতের তরফে প্রকাশ্যে এখনও সংযত প্রতিক্রিয়াই দেখা যাচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান চায় নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে বাংলাদেশেও ভারতের কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরপর হাই কমিশনার তলবের ঘটনায় স্পষ্ট যে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বর্তমানে এক সংবেদনশীল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।
