ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের চাপে অবশেষে পিছু হঠল ইউনুস সরকার। বাংলাদেশের ময়মনসিংহে সত্যজিৎ রায়ের পূর্ব পুরুষের বাড়ি ভাঙা বন্ধ করল ঢাকা। বাড়িটি সংরক্ষণে জোর দেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, উপেন্দ্র কিশোর রায়চৌধুরীর এই বাড়ি ভাঙা শুরু হতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। বাড়ি ভাঙা বন্ধ করতে ইউনুস সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছিল ভারত সরকার। শুধু তাই নয়, ভারত প্রয়োজনে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছিল।
বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কর্তা সাবিনা ইয়াসমিন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘ইতিমধ্যে ঐতিহ্যবাহী বাড়িটির এক-তৃতীয়াংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বাড়িটি সংরক্ষণের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।’
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ময়মনসিংহ শহরের হরিকিশোর রায় রোডের বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাডেমির বাড়িটি দেড় শতাধিক বছর পুরনো। বাড়ির মালিক প্রয়াত জমিদার হরিকিশোর রায়। তিনি ছিলেন উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর পালক পিতা। সত্যজিৎ রায়ের ঠাকুরদা ছিলেন উপেন্দ্রকিশোর। উপেন্দ্রকিশোর দীর্ঘদিন ওই বাড়িতে থেকেছেন। বাড়িটি ভেঙে ফেলার খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টিকে ‘হৃদয়বিদারক’ বলে বর্ণনা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজ মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের ময়মনসিংহে সত্যজিৎ রায়ের ঠাকুরদার বাড়ি ভাঙা হচ্ছে। স্মৃতিবিজড়িত এই বাড়ির ধ্বংসের খবর খুবই দুঃখজনক। রায় পরিবার বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান ধারক ও বাহক।’ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছিল ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফেও। একটি বিবৃতি দিয়ে নয়াদিল্লির তরফে জানানো হয়েছে, ‘উপেন্দ্রকিশোরের বাড়িটি শুধু একটি স্থাপত্য নয়, এটি ভারত ও বাংলাদেশের মিলিত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক। এই বাড়িকে সাহিত্য-স্মারক হিসেবে সংরক্ষণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা উচিত। প্রয়োজনে ভারত সরকার সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’
