ওঙ্কার ডেস্কঃ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছিলেন তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছিলেন, ধর্ম যার যার, কিন্তু দেশ সবার। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশবাসীকে বেস কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন খালেদা পুত্র। তার মধ্যে অন্যতম হল, সরকারি ব্যবস্থাপনায় সিন্ডিকেট রাজের অবসান। তারেক রহমান জানিয়েছিলেন, কোথাও আর সিন্ডিকেটরা চলতে দেওয়া হবে না। কিন্তু তাঁর মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তথা রেল সড়ক ও নৌ পরিবহণ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলছেন ভিন্ন কথা।
নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এই সিন্ডিকেট বা অবৈধ ব্যবস্থাকে চাঁদাবাজি বলতে রাজি নন। তিনি বলেছেন এটা মালিকেরা বোঝাপড়ার ভিত্তিতে দিয়ে থাকেন। সেই অর্থ পরিবহণ শ্রমিকদের কল্যাণে খরচ করা হয়। মন্ত্রীর এই মন্তব্যে বাংলাদেশে নতুন জল্পনা উসকে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন মন্ত্রী। কারণ বাংলাদেশে সড়ক ও নৌ পরিবহণে সিন্ডিকেটের পরিমাণ আকাশ ছোঁয়া। মাথাদের বিপুল টাকা চাঁদা দিতে গিয়ে পরিবহণ মালিকেরা ভাড়া এতটাই বাড়াতে বাধ্য হন যে বহু মানুষের যাতায়াত বন্ধ করে দেন।
সূত্রের খবর, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ সংস্থাটি বছরখানেক আগে এক জরিপে দেখিয়েছে যে, হাজার কোটি টাকার উপর চাঁদাবাজি করে তোলা হয় পরিবহণ খাত থেকে। কিন্তু নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর ব্যাখ্যা, জবরদস্তি করা হলে তবেই সেটাকে চাঁদাবাজি বলা যেতে পারে। কিন্তু এটা একধরণের বোঝাপড়াই।
বাংলাদেশের সড়ক ও নৌ পরিবহণ বেশিরভাগই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের হাতে। শেখ হাসিনার জমানায় সিন্ডিকেট গুলি ছিল সব আওয়ামী লিগ নেতাদের দখলে। ২০২৪ এর ৫ অগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর অধিকাংশ সিন্ডিকেট দখল করে বিএনপি। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত থাকায় প্রায় ছয় হাজার নেতাকর্মীকে গত দেড় বছরে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। তারপরও নতুন মন্ত্রী কেন চাঁদাবাজির অভিযোগকে লঘু করলেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর তরজা।
