ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশে ইতিহাসচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনাগুলিকে নথিভুক্ত করার লক্ষ্যে বড় উদ্যোগ নিল সরকার। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলন এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কেন্দ্র করে গবেষণার জন্য আর্থিক অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যক্তি গবেষক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান উভয়েই আবেদন করতে পারবেন। গবেষণার প্রকৃতি ও সময়সীমার উপর নির্ভর করে অনুদানের পরিমাণ নির্ধারিত হবে। সর্বনিম্ন কয়েক লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের মতে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলেও এখনও বহু অজানা তথ্য, স্থানীয় স্মৃতি এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা যথাযথভাবে নথিভুক্ত হয়নি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এই সব তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের একটি আরও পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা সম্ভব হবে। তাই গবেষকদের উৎসাহিত করতে এই বিশেষ অনুদান প্রকল্প চালু করা হয়েছে।
একই সঙ্গে গুরুত্ব পাচ্ছে সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনও। ছাত্রদের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুতই বৃহত্তর গণআন্দোলনে পরিণত হয় এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গভীর প্রভাব ফেলে। এই আন্দোলনের কারণ, বিস্তার, সংগঠন পদ্ধতি এবং সামাজিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে সরকার। সেই কারণেই এই ঘটনাকেও গবেষণার আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে গবেষণার পরিধি বাড়বে এবং নতুন তথ্য ও বিশ্লেষণ সামনে আসার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, গবেষণার জন্য একাধিক সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণার ক্ষেত্রে এক বছরের মেয়াদ, ব্যক্তিগত গবেষণার জন্য প্রায় ন’মাস এবং স্বল্পমেয়াদি গবেষণার জন্য ছ’মাস সময় দেওয়া হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গবেষণা সম্পন্ন করে রিপোর্ট জমা দিতে হবে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে থাকবে।
প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে গবেষণার প্রস্তাব আহ্বান করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, পিএইচডি ডিগ্রিধারী কিংবা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা এই প্রকল্পে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। আবেদনগুলির মধ্যে থেকে যোগ্য প্রস্তাব বেছে নিয়ে অনুদান প্রদান করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলিকে নতুনভাবে বিশ্লেষণের সুযোগই করে দেবে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নির্ভরযোগ্য দলিল তৈরি করতেও সহায়ক হবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পাশাপাশি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনের গতিপ্রকৃতিও গবেষণার মাধ্যমে স্পষ্টভাবে উঠে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।