স্পোর্টস ডেস্ক : ভারত এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) ব্যাটিং আইকন বিরাট কোহলি গত মরসুমে দলের প্রথম ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) জয়ের স্মৃতি রোমন্থন করেছেন। আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা আইপিএল ২০২৬ শুরু, তার আগে গত মরসুমের ফাইনালের অনুভূতি ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন ম্যাচ শেষ হওয়ার অপেক্ষা করা ছিল তাঁর জন্য রাতের “সবচেয়ে কঠিন অংশ”। আইপিএল-এর শুরু থেকেই চ্যাম্পিয়নের খুব কাছে পৌঁছেও ট্রফি জিততে না পারার যন্ত্রণা নিয়েই কেটে গিয়েছিল এতগুলো বছর। তবে শেষ পর্যন্ত ট্রফি এসেছে ঘরে। এই মরসুমটা সে কারণ অনেকটাই আলাদা বিরাট কোহলি তথা আরসিবির জন্য।
আরসিবি-এর পোস্ট করা একটি ভিডিওতে কথা বলতে গিয়ে, বিরাট বলেছেন, ‘‘আমি প্রথম দিন থেকে এখানে ছিলাম এবং মানে (টিমের ম্যাসিওর রমেশ মানে) কাকাও। আমরা সম্ভবত আরসিবি গ্রুপের সবচেয়ে বয়স্ক সদস্য, এবং খুব সত্যি কথা বলতে, যখন আমরা ফাইনালে পৌঁছেছিলাম (পঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে), তখন আমি শান্ত আত্মবিশ্বাসের অনুভূতি অনুভব করেছি।’’
বিরাট আরও বলেছিলেন যে তাঁর আত্মবিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও, তিনি জানতেন এটি একটি “কেকওয়াক” হবে না। ‘‘এটি একটি ফাইনাল, এবং সেখানে আরেকটি দল আছে যারা সত্যিই সেখানে যাওয়ার জন্য ভাল খেলেছে এবং স্পষ্টতই অনেক ভাল দলকে পরাজিত করেছে, তাই তারা যা করতে চায় তার ব্যাপারেও তারা খুব আত্মবিশ্বাসী,’’ তিনি যোগ করেছেন।
বিরাট বলেছেন যে অতীতে তার ফ্র্যাঞ্চাইজি একাধিক সুযোগ নষ্ট করেছে, যেমন ২০০৯ এবং ২০১৬ ফাইনালে ডেকান চার্জার্স এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কাছে খুব কাছে পৌঁছেও হারতে হয়েছিল, যা ফ্র্যাঞ্চাইজির স্নায়ুর লড়াইয়ের প্রেরণা।যেহেতু লিগ অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছিল, ফাইনালে যাওয়ার জন্য আমাদের অবশ্যই সত্যিই ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। এটা কোনও ফ্লুক নয়, এটা হঠাৎ করে হয়ে যাওয়া কোনও ঘটনা নয়। আমরা সত্যিই কিছু ভালো দলকে হারিয়েছি, এবং আমরা একটি অসাধারণ দল যারা এই দিনে এখানে থাকার অধিকার অর্জন করেছি। সব মিলিয়ে, এটি আমাদের সবার জন্য একটি আশ্চর্যজনক রাত ছিল,’’ বলেছেন তিনি।
‘‘সত্যি বলতে এটা আমার কাছে বেশ বাস্তব ছিল, বেশ অবিশ্বাস্য ছিল যখন শেষ পর্যন্ত সবকিছু উন্মোচিত হয়। অনেক কিছুই আপনার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ১৮ বছরের পুরো যাত্রা, সমস্ত উত্থান-পতন, সমস্ত ভালো মুহূর্ত, খারাপ মুহূর্ত, এটি আপনার সামনে উন্মোচিত হওয়ার মতো এই সমস্ত কিছুর সঞ্চয়, এবং এটি একটি খুব কঠিন জিনিস যা পরবর্তী ১০ মিনিটের মধ্যে ঘটতে চলেছে। অভিজ্ঞতার জিনিস।’’
“এবং সেই অভিজ্ঞতা আমি কখনওই ভুলতে পারব না। এবং বিশেষ করে শেষ ওভার, যেখানে আপনি জানেন যে খেলাটি শেষ করতে হবে, এই আশায় যে জোশ (হ্যাজেলউড) নো-বল করবেন না, যা তিনি কখনও করেন না। তাই একটি শান্ত আত্মবিশ্বাস ছিল কিন্তু তারপরও যেমন আমি বলেছিলাম যে আপনি নিখুঁত ফলাফলের আশা করছেন। তাই জেনে যে খেলাটি তাদের ছাড়িয়ে গিয়েছে এবং তারপরে অপেক্ষা করা সম্ভবত সেই শেষ তিনটে বলের জন্য অপেক্ষা করা ছিল,’’ বলেন কোহলি।
গত মরসুমে, বিরাট ১৫ ইনিংসে ৫৪.৭৫ গড়ে এবং ১৪৪.৭১ স্ট্রাইক রেটে ৬৫৭ রান করেছিলেন, তাঁর নামে আটটি অর্ধশতক রয়েছে, দলের শীর্ষস্থানীয় রান সংগ্রাহক এবং সামগ্রিকভাবে তৃতীয়-সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসাবে শেষ করেছিলেন। এবার আবার সেরাটা দেওয়ার লক্ষ্যেই মাঠে নামবেন তিনি।’এদিকে আরসিবি দল কিনতে মালিকদের প্রতিযোগিতা শুরু শুরুতে প্রায় পাঁচটি সংস্থা আরসিবি কিনতে আগ্রহ দেখালেও শেষ পর্যন্ত তা দুইয়ে নেমেছিল। সুইডেনের সংস্থা ইকিউটি-র বিরুদ্ধে লড়াই ছিল মণিপাল হাসপাতাল, আমেরিকার সংস্থা কোহ্লবার্গ ক্রেভিস রবার্টস (কেকেআর) ও সিঙ্গাপুরের সংস্থা টেমাসেকের মিলিত কোম্পানির। এ বার সেই লড়াইয়ে এসেছে আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠী ও আমেরিকার বিনিয়োগকারী ডেভিড ব্লিৎজ়ারের মিলিত কোম্পানি। তারা ইতিমধ্যেই রাজস্থান রয়্যালস কেনার দৌড়ে রয়েছে। সেখানে দরপত্রও জমা দিয়েছে তারা। তবে বেঙ্গালুরু কিনতে মৌখিক কথা হলেও এখনও তারা দরপত্র জমা দেয়নি বলে জানা গিয়েছে। যদি তারা দরপত্র জমা দেয় তা হলে কোহলিদের দলের মালিকানা বদলের লড়াই আরও তীব্র হবে।আরসিবির বাজারদর প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার কোটি টাকা ধার্য করেছে দলের বর্তমান মালিক ব্রিটেনের পানীয় প্রস্তুতকারক সংস্থা দিয়াজিয়োর অংশ ইউনাইটেড স্পিরিটস লিমিটেড। যে সংস্থাগুলি এখন দৌড়ে রয়েছে তারা সেই টাকা দিতে তৈরি। ইতিমধ্যেই দরপত্র জমা দিয়েছে তারা। যদি এই দামে আরসিবি বিক্রি হয় তা হলে প্রতিযোগিতার ইতিহাসে তা সবচেয়ে দামি দল হবে। এর আগে ২০২১ সালে ৭৮৫৯ কোটি টাকায় লখনউ সুপার জায়ান্টস কিনেছিলেন কলকাতার শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েন্কা। সেই রেকর্ড এ বার ভেঙে যেতে পারে।
দিয়াজিয়ো চাইছে ৩১ মার্চের মধ্যে চুক্তি করে ফেলতে। কারণ, এক বার নতুন মালিক ঠিক হয়ে গেলে তার পরেই ভারতীয় বোর্ডকে তা জানাতে পারবে তারা। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে ৪৫ থেকে ৯০ দিন সময় লাগতে পারে। অবশেষে চলতি বছর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে নতুন মালিকের হাতে দল তুলে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, আগামী মরসুম থেকে নতুন মালিকের অধীনে খেলতে নামবেন কোহলিরা।