ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা বদলের পর বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নয়া উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষা থেকে শুরু করে তিস্তা নদীর জলবণ্টন সব ইস্যুতেই রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে অস্বস্তি তো ছিলই কিন্তু বাংলায় বিজেপি সরকারের সময়কালে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক কোন দিকে যাবে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। বঙ্গে বিজেপি জেতার অন্যতম কারনের গুলির মধ্যে একটি ছিল বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের প্রবেশ আটকানো। এই বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান কি হতে চলেছে তা নিয়ে ভাবছে বিশেষজ্ঞ মহল।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলাদেশে তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অমীমাংসিত থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যু আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের ফলে ভারতীয় কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে রাজ্যের সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে, যা তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশের কাছে তিস্তা নদীর জলবণ্টন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষি, সেচব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জন্য। বহুদিন ধরেই ঢাকা অভিযোগ জানিয়ে এসেছে যে, পর্যাপ্ত জল না পাওয়ার কারণে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কৃষিক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। ২০১১ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা তৈরি হলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আপত্তির কারণে সেই উদ্যোগ থমকে যায়। সেই সময় পশ্চিমবঙ্গ সরকার উত্তরবঙ্গের কৃষকদের স্বার্থের কথা তুলে ধরে প্রস্তাবিত চুক্তির বিরোধিতা করেছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের ধারণা, পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের ফলে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় বাড়তে পারে এবং দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে চুক্তি বাস্তবায়নের পথে নতুন উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার যদি রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা বজায় রেখে কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি এগিয়ে নিয়ে যায়, তবে তিস্তা সমস্যার সমাধানে বাস্তব অগ্রগতি হতে পারে।
শুধুমাত্র তিস্তা নয়, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও সামনে রয়েছে। সীমান্ত হত্যা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশব্যাক, গঙ্গা জলচুক্তির নবীকরণ এবংবাণিজ্যিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলি বাংলাদেশের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ঢাকা চাইছে, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দিল্লি ও কলকাতার সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির মাধ্যমে সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হোক। তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তা শুধু জলবণ্টন সমস্যার সমাধানই করবে না, বরং দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। তবে একই সঙ্গে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, সীমান্ত নীতি এবং আঞ্চলিক স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই থাকবে।