ওঙ্কার ডেস্ক: দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বাংলাদেশে যাত্রীবাহী রেল কোচ সরবরাহ শুরু করতে চলেছে ভারত। আগামী জুলাই মাসেই প্রথম দফায় ২০টি ব্রড গেজ যাত্রীবাহী কোচ বাংলাদেশে পাঠানো হবে বলে জানা গিয়েছে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এটিই হবে ভারতের পক্ষ থেকে প্রথম বড় রেল কোচ রপ্তানি। এই পদক্ষেপকে দুই দেশের মধ্যে রেল সহযোগিতা এবং কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই কোচগুলি ২০০টি ব্রড গেজ যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহের বৃহৎ প্রকল্পের অংশ। ভারতীয় সংস্থা রাইটস-এর মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। কোচগুলি পাঞ্জাবের কাপুরথলা রেল কোচ ফ্যাক্টরিতে তৈরি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রথম রেকের নকশা ও প্রযুক্তিগত অনুমোদনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে উৎপাদনের শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে এবং নির্ধারিত সময়ে কোচগুলি বাংলাদেশে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে। প্রথম দফার সরবরাহ সফলভাবে সম্পন্ন হলে ধাপে ধাপে বাকি কোচগুলিও বাংলাদেশে পাঠানো হবে। এই প্রকল্পের আওতায় শুধু রেল কোচ সরবরাহই নয়, প্রয়োজনীয় খুচরো যন্ত্রাংশ, প্রযুক্তিগত সহায়তা, কর্মীদের প্রশিক্ষণ, কমিশনিং পরিষেবা এবং নির্দিষ্ট সময়ের রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধাও প্রদান করবে ভারত। ফলে বাংলাদেশের রেলওয়ের আধুনিকীকরণ এবং পরিষেবার মান উন্নয়নে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ বরাবরই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অতীতেও ভারত বাংলাদেশকে একাধিক আধুনিক এলএইচবি যাত্রীবাহী কোচ এবং ব্রড গেজ ও মিটার গেজ লোকোমোটিভ সরবরাহ করেছে। নতুন এই ২০০ কোচ যুক্ত হলে বাংলাদেশ রেলওয়ের বহর আরও শক্তিশালী হবে এবং যাত্রী পরিবহণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ শুধুমাত্র একটি বাণিজ্যিক চুক্তি নয়, বরং ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, অবকাঠামোগত সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির প্রতীক। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কিছু সময় প্রকল্পের অগ্রগতি মন্থর হলেও, বর্তমানে দুই দেশের প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে তা আবার গতি পেয়েছে। ফলে আগামী দিনে রেল যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কও নতুন মাত্রা পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।