ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় এক হিন্দু পুরোহিতের উপর নৃশংস হামলার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরের পুরোহিত সুভাষ দেউরিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানোর অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার গভীর রাতে প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন সুভাষ দেউরি। ঢাকার ওয়ারি থানার অন্তর্গত নারিন্দা এলাকার ১৫ নম্বর নারিন্দা রোডে অগ্রণী ব্যাংকের সামনে পৌঁছতেই আচমকা কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁর পথ আটকে দাঁড়ায়। এরপর কোনও কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর উপর এলোপাথাড়ি হামলা চালানো হয়। মাথা, হাত এবং পা-সহ শরীরের একাধিক স্থানে গভীর কোপ লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। হামলার পর অভিযুক্তরা তাঁর মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
অভিযোগ, আহত অবস্থায় দীর্ঘ সময় রাস্তাতেই পড়ে ছিলেন ওই পুরোহিত। গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ তাঁকে উদ্ধার করতে পারেননি। পরদিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। চিকিৎসকদের দাবি, শরীরের একাধিক স্থানে গুরুতর আঘাত থাকায় তাঁর অবস্থা এখনও সংকটজনক এবং নিবিড় চিকিৎসা চলছে।
প্রসঙ্গত, গত কয়েক মাসে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ঘিরে একাধিক অশান্তির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। বিভিন্ন জায়গায় মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর এবং সংখ্যালঘু পরিবারের উপর আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে। এই আবহেই রাজধানী ঢাকার বুকে এক পুরোহিতের উপর এমন নৃশংস হামলার ঘটনা নতুন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিও উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহল থেকে। বর্তমানে সকলের নজর সুভাষ দেউরির শারীরিক অবস্থার দিকে, পাশাপাশি তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং হামলাকারীদের কত দ্রুত আইনের আওতায় আনা যায়, সেদিকেও নজর রয়েছে।