ওঙ্কার ডেস্ক: স্থূলকায় হওয়ায় স্বামীর কাছে শুনতে হত কথা। শুধু তাই নয়, সেই সঙ্গে চলত অত্যাচারও। সেই সবের মাঝে বাপের বাড়ি থেকে যৌতুক ও সোনা দাবি করে চলত চাপ সৃষ্টি। সেই অত্যাচারের ধারাবাহিকতায় স্ত্রীকে করে খুন করে ফেললেন স্বামী। ঘটনাটি ঘটেছে কর্নাটকের ধারওয়াড় জেলায়। ২৯ বছর বয়সী ওই তরুণী ছিলেন পেশায় নার্স। তাঁকে তাঁর স্বামী শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত তাঁকে ‘খুব মোটা’ বলে বারবার অপমান করত। সেই সঙ্গে বলত, কোনও দিন সন্তান ধারণ করতে পারবে না স্ত্রী।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত তরুণীর নাম প্রিয়াঙ্কা কমলাকর। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাসবরাজ ওয়াদ্দারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। এফআইআর অনুসারে, বিয়ের কয়েক সপ্তাহ পর থেকে নির্যাতন শুরু হয়। তদন্তে জানা গিয়েছে, বাসবরাজ তার পরিবারের লোকজনকে নিয়ে প্রিয়াঙ্কাকে চাপ দিত বাপের বাড়ি থেকে টাকা ও সোনা নিয়ে আসার জন্য। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তার চেহারা এবং ওজন নিয়ে ক্রমাগত অপমান করা হতো। অভিযুক্ত প্রিয়াঙ্কাকে ‘মোটা’ বলে বিদ্রূপ করার পাশাপাশি তিনি কেন গর্ভধারণ করতে পারেননি তা নিয়ে প্রশ্ন তুলত।
পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার রাতে অত্যাচার চরমে ওঠে। ওই সময়ে নাভালগুন্ড তালুকের হানাসি গ্রামে বাসবরাজ প্রিয়াঙ্কাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এই খুনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে দুই দিন পর। ঘটনা জানাজানি হতে গ্রামে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রিয়াঙ্কার কাকার অভিযোগ, বাসবরাজ ক্রমাগত তার চেহারা নিয়ে উপহাস করত, তাকে বলত সে ‘মোটা’। সে কখনও সন্তান ধারণ করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করত অভিযুক্ত। প্রিয়াঙ্কার পরিবারের দাবি, বিয়ের পর প্রিয়াঙ্কা দুবার গর্ভধারণ করলেও স্বামীর দ্বারা নির্যাতনের কারণে তার গর্ভপাত হয়ে যায়।
অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ বাসবরাজ ওয়াদ্দারের পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্য রেনাব্বা, সুভাষ এবং সিদ্দারামেশকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে হত্যা, যৌতুক নিয়ে হয়রানি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে।