ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ব্যাপক জয়ের পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণের পাশাপাশি নতুন করে সামনে উঠে এসেছে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের ইস্যু। দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ একটি স্পর্শকাতর রাজনৈতিক বিষয় হিসেবে বিবেচিত হলেও, নতুন সরকারের ক্ষমতায় আগমনের পর এই প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্বাচনী প্রচারে বিজেপি বারবার সীমান্ত সুরক্ষা, বেআইনি অনুপ্রবেশ রোধ, নাগরিকত্ব যাচাই এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রসঙ্গকে বড় করে তুলে ধরেছিল। ফলে নির্বাচনী সাফল্যের পর সেই প্রতিশ্রুতিগুলিকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। আর এতেই বাংলাদেশ সরকারের এক দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এই ইস্যুকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির প্রভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের অবস্থান কঠোর হলে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নজরদারি, নাগরিকপঞ্জি সংশোধন এবং পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া আরও জোরদার হতে পারে।
রাজ্যের উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া এবং কোচবিহারের মতো সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে এই ইস্যুর সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসনিক পর্যায়ে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর সক্রিয়তা বৃদ্ধি, বেআইনি বসবাসকারীদের শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা তীব্র হতে পারে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে নাগরিকত্ব ও পরিচয় সংক্রান্ত উদ্বেগও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে বিজেপি শাসিত অসমে কিছু অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ঢোকার চেষ্টা করলে তাদের ফের সীমান্তের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ইস্যু আগামী দিনে রাজ্যের সামাজিক ও রাজনৈতিক মেরুকরণেও বড় ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে ধর্মীয় পরিচয়, ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি এবং সীমান্তবাসী মানুষের জীবিকায় এর প্রভাব উল্লেখযোগ্য হতে পারে। অন্যদিকে, ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এই পরিস্থিতি নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। অবৈধ অনুপ্রবেশ ও প্রত্যাবাসন ইস্যুতে দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে আলোচনার গুরুত্ব বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদল সীমান্ত রাজনীতি থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উভয় ক্ষেত্রেই সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।