ওঙ্কার ডেস্ক: বঙ্গে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিজেপি সরকার। ব্রিগেড ময়দানে শপথ গ্রহণ করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে শপথ গ্রহণ করলেন আরও পাঁচজন মন্ত্রী। সেই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একজন ৯৭ বছরের ব্যক্তির পা ছুঁয়ে প্রণাম করলেন। অনেকের মনে প্রশ্ন কে তিনি। তিনি হলেন, বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই বৃদ্ধ জনসঙ্ঘ ও বিজেপির আদি যুগের লড়াকু সৈনিক, শিলিগুড়ির বাসিন্দা মাখন লাল সরকার।
ইতিহাস বলছে এর আগে বঙ্গে কংগ্রেসের আমলে কেন্দ্রে এবং রাজ্যে এক সরকার ছিল। লার মসনদে প্রথমবার শপথ নিতে চলেছেন পদ্ম শিবিরের কোনও নেতা। ঠিক সেই সময়েই মঞ্চে প্রবেশ করলেন এক অশীতিপর বৃদ্ধ। তাঁকে দেখামাত্রই এগিয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পরম শ্রদ্ধায় জড়িয়ে ধরলেন তাঁকে, নিচু হয়ে স্পর্শ করলেন পা। শিলিগুড়ির মাখন লাল সরকার নামের এই বৃদ্ধের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে জনসঙ্ঘ এবং আজকের ভারতীয় জনতা পার্টির দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাস।
এই বিষয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মাখন লাল সরকারের পরিচয় দিতে গিয়ে জানান, তিনি ছিলেন ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ শ্যামাপ্রাসাদ মুখোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহকর্মী। ১৯৫২ সালে কাশ্মীরে তেরঙা পতাকা উত্তোলনের ঐতিহাসিক অভিযানে শ্যামাপ্রাসাদবাবুর সঙ্গী ছিলেন এই মাখন লাল সরকার। কাশ্মীরের জেলে যখন রহস্যজনকভাবে শ্যামাপ্রাসাদের মৃত্যু হয়, তখন তাঁর শেষযাত্রার অন্যতম সাক্ষী ছিলেন এই বৃদ্ধ। সেই আন্দোলনে তাঁকে গ্রেফতারও করে কাশ্মীর পুলিশ।মাখন লাল সরকারের জীবনের এক রোমাঞ্চকর কাহিনী শুনিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। কংগ্রেস শাসনকালে একবার দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার অপরাধে দিল্লি পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করে। বিচারক তাঁকে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু মাখনবাবু মাথা নত করতে অস্বীকার করেন। তিনি বিচারককে বলেন, গান গেয়ে তিনি কোনও অপরাধ করেননি। বিচারক তখন গানটি শুনতে চাইলে ভরা আদালতেই আবার সেই গান গেয়ে শোনান। তাঁর সাহসিকতা দেখে মুগ্ধ হয়ে বিচারক পুলিশকে নির্দেশ দেন তাঁকে প্রথম শ্রেণির ট্রেনের টিকিট এবং যাত্রাপথের খরচ বাবদ ১০০ টাকা দিয়ে সসম্মানে বাড়ি পাঠিয়েছিলেন। এমনকি ১৯৮০ সালে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার পেছনে ওনার ভুমিকা ছিল অপরিসীম।