ওঙ্কার ডেস্ক: এবার থেকে বাংলার সমস্ত সরকারি বিদ্যালয় গুলিতে গাইতে হবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’। এমনই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে পসচিমবঙ্গ স্কুল শিক্ষা পর্ষদ। বিধানসভার নির্বাচনের আগে শাসক দলের এই সিধান্তকে নির্বাচনের প্রচার বলে বলে কটাক্ষ করেছে বিরোধী দল। অবশ্য ২০২৩ সালেই রবি ঠাকুরের ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’-কে রাজ্য সঙ্গীত হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
বাংলার বিদ্যালয় গুলিতে ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ গাওয়ার কথা শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোষ্ট করেন। নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিদিন সকালে বিদ্যালয়ের প্রার্থনা-সভায় জাতীয় সঙ্গীতের পর এই গান গাইতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের পক্ষ থেকে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। পর্ষদের সভাপতি রমা প্রভা সরকার জানিয়েছেন, “রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও মাতৃভাষার গরিমা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সব স্কুলে নিয়মিতভাবে এই নির্দেশ কার্যকর করতে হবে।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ ২০২৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাধ্যমে রাজ্যগানের মর্যাদা পেয়েছিল। কবিগুরুর এই গান বাংলার মাটি, জল, গাছপালা ও সংস্কৃতির সঙ্গে আত্মিক সম্পর্কের বার্তা বহন করে। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানিয়েছেন, “এই নির্দেশের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা প্রতিদিন রাজ্যের ঐতিহ্যের সঙ্গে একাত্ম হবে। তাদের মধ্যে দেশপ্রেম, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা আরও দৃঢ় হবে।” নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দায়িত্ব থাকবে সকালবেলার প্রার্থনার সময় গানটি গাওয়ার নিশ্চিত করা। প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের গানটি শেখাতে বিশেষ অনুশীলনের ব্যবস্থাও করতে বলা হয়েছে। পর্ষদ জানিয়েছে, যেসব বিদ্যালয় নিয়মিত এই নির্দেশ মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
পর্ষদের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে কিছু মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষকদের একাংশের মতে, “রাজ্যগান গাওয়াতে কোনও আপত্তি নেই, কিন্তু সময়ের সীমাবদ্ধতা ও প্রতিদিন জাতীয় সঙ্গীতের পর আরও একটি গান গাওয়ার বিষয়টি বাস্তবায়নে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।” অপরদিকে, রাজ্য সরকারের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, “এটি শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক পরিচয় জোরদার করার উদ্যোগ, যাতে ছাত্রছাত্রীরা নিজের রাজ্যের ঐতিহ্য ও ইতিহাস সম্পর্কে আরও সচেতন হয়’।
