নিজস্ব প্রতিনিধি, ভাঙড়: সম্প্রতি সভা থেকে শওকত মোল্লা হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তৃণমূলকে সমর্থন না করলে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের টাকা পাবে না। তাঁর সেই মন্তব্যের পর থেকেই সরকারি ঘরের সমীক্ষা ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হল আইএসএফ ও তৃণমূলের মধ্যে।
আইএসএফ এর অভিযোগ, সকাল থেকেই এলাকায় সরকারি ঘরের সমীক্ষা চলছিল। নওশাদের দলের দাবি, বেছে বেছে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও কর্মীদের বাড়িতেই সমীক্ষা করা হচ্ছিল। যাঁরা প্রকৃত পক্ষে ঘর পাওয়ার যোগ্য, কিংবা আইএসএফের কর্মী-সমর্থক, তাঁদের বাড়িতে কোনও সমীক্ষা করা হয়নি। এমনকি তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের দোতলা ও তিন তলা বাড়িতেও সমীক্ষা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আইএসএফের কর্মী-সমর্থকরা প্রতিবাদে সরব হন। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় উত্তর কাশীপুর থানার পুলিশ। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই পুলিশ উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেয়। আইএসএফের অভিযোগ, গতকাল ভাঙড় এলাকায় প্রকাশ্য সভা থেকে ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক ও ভাঙড়ের পর্যবেক্ষক শওকত মোল্লা স্পষ্টভাবে বলেন, বেছে বেছে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদেরই ঘর দেওয়া হবে এবং আইএসএফকে ঘর দেওয়া হবে না। সেই ঘোষণার বাস্তবায়নই শুরু হয়েছে ভাঙড়ে।
এই বিষয়ে আইএসএফের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি আব্দুল মালেক মোল্লা বলেন, “ভাঙড়ের অবজারভার ইচ্ছাকৃতভাবে ভাঙড়ের মানুষের মধ্যে অশান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছেন। উনি প্রকাশ্যে ঘর আটকানোর কথা বলেছেন। প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে ভাঙড়ের মানুষ প্রয়োজনে বিডিও অফিস ঘেরাও করবে। নইলে পরিস্থিতি আরও অশান্ত হতে পারে।”
অন্যদিকে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের পাল্টা দাবি, “সকাল থেকে আমরা নিয়ম মেনে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের আওতায় পড়া বাড়ির ছবি তুলছিলাম। সেই সময় আইএসএফের লোকজন এসে বলে ঘর তারাই দেবে এবং ছবি তোলার অধিকার শুধু তাদেরই। এমনকি বোমা ও বন্দুক নিয়ে হামলা চালানোরও চেষ্টা করা হয়। এদিকে ঘটনার উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তের ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তবে সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি ওঙ্কার বাংলা।
