ধর্মকীর্তির বুদ্ধমূর্তি
অসীম সেন
পর্ব-৪
সুদর্শনঃ লাস্ট কয়েকদিন ধরে নীরজের এক বন্ধু এই মূর্তিটি কিনতে চেয়েছিল। ২০ কোটি দামও দিয়েছিল। ত্রিপাঠী জি রাজী হচ্ছিল না। নীরজের সঙ্গে ওর বন্ধু একবার এ বাড়িতে এসেছিল। মূর্তিটিও দেখেছিল।
প্রফেসরঃ এখানেও মগনলাল মেঘরাজ!
সমিতাঃ আপনি এখন আসতে পারেন সুদর্শন বাবু
সুদর্শন বাবু যাবার জন্য ফিরতেই
প্রফেসরঃ সুদর্শন বাবু আপনিতো সরকারি চাকরি করতেন। পেনশনও পান। তাহলে বন্ধুর ঘরে চাকরি করতে পড়ে আছেন কেন?
সুদর্শন বাবু কিছু বলতে গেলে প্রফেসর বাগচি বলেন
প্রফেসরঃ আচ্ছা এখন আপনি যান
সুদর্শন একটু থেমে চলে যায়
প্রফেসর বাগচির ড্রয়িং রুম। মুখ গুম করে বসে আছেন প্রফেসর বাগচি। উল্টো দিকে বসে আছেন অসীম সেন। চা নিয়ে ঢোকে সমিতা।
অসীমঃ জামাই বাবু কিছু করুন। আর তিন দিন বাকি। মূর্তিটার সুরক্ষার দায়িত্ব নেবার আগেই এই ঘটনা। রাজ্যের প্রেস্টিজ আপনার হাতে।
প্রফেসর বাগচিঃ একটা ছবি ধীরে ধীরে দানা বাঁধছে আর মিলিয়ে যাচ্ছে।
সমিতাঃ তুমি কী ভাবছো বলোতো ?
প্রফেসর বাগচিঃ (নিজের মনে মনে) মর্নিং ওয়াকে গিয়ে পায়ে চোট, জানলায় পিঁপড়ে, বাড়িতে মূর্তি
অসীমঃ এ তো আরও গুলিয়ে দিচ্ছেন জামাইবাবু।
প্রফেসর বাগচিঃ আচ্ছা অসীম, তুমি সুদর্শন বাবু আর নীরজের কুণ্ডলি বার করে দাও তো আজ বিকেলের মধ্যে।
অসীমঃ হয়ে যাবে।
প্রফেসর বাগচিঃ আচ্ছা সমিতা আমি সকালে কিছু খাইনি না ?
সমিতাঃ পাঁচ পাঁচখানা কড়াইশুটির কচুরী কে খেল তবে ?
প্রফেসর বাগচিঃ ও খেয়েছি না। তাহলে বোধহয় চা খাইনি।
সমিতাঃ এই তো চা খেলে। দশ মিনিটও হয়নি।
বিকেল বেলায় প্রফেসর বাগচির ড্রয়িং রুমের ফোন টা বেজে ওঠে
প্রফেসর বাগচিঃ হ্যালো কে বলছেন… ও অসীম…খোঁজ পেয়েছ….হ্যা….তাই নাকি……তাহলে তো মিটেই গেল……ঠিক আছে কাল সকালে একবার ত্রিপাঠীজির বাড়িতে যাব……আরে আমি গণৎকার নাকি….তোমাদের অপদার্থ পুলিশ কী করছে? রাখো । এখন তোমার দিদি পাটিসাপটা বানাচ্ছে। এখন ফালতু কাজে মন দেবার সময় আমার নেই।
ঠক করে ফোন টা রেখে দেন।
সকালে ত্রিপাঠীর বাড়িতে অসীম আর প্রফেসর বাগচি। সমিতা বাগচিকে কলেজ যেতেই হয়েছে।
ত্রিপাঠীঃ আরে হঠাৎ করে আপনারা? চোর ধরা পড়েছে ?
প্রফেসর বাগচিঃ আপনার বন্ধু আর ছেলে ঘরে আছে ?
ত্রিপাঠীর কথার উত্তরের জন্য অপেক্ষা না করে ভিতরে চলে যান প্রফেসর বাগচি
প্রফেসর বাগচিঃ সুদর্শন বাবু আপনার বাড়িটা আর আপনার নামে নেই তাই তো
সুদর্শনঃ মানে আপনি কী বলতে চাইছেন ?
প্রফেসর বাগচিঃ সেদিন এত কথা বললেন আর আপনার গুণধর ছেলের কথা তো বললেন না।
সুদর্শনঃ তার সঙ্গে মূর্তি চুরির কী সম্পর্ক ?
প্রফেসর বাগচিঃ আছে সুদর্শন বাবু আছে। ছেলে জুয়ারি। ছেলের ধার করা টাকা শোধ করতে বাড়ি বন্ধক রাখতে হয়েছে। এ সময়ে যদি মূর্তিটি বাগিয়ে নেওয়া যায় তাহলেই তো সব সমস্যা মিটে গেল।
সুদর্শনঃ কিন্তু আমি মূর্তি চুরি করিনি।
প্রফেসর বাগচিঃ যদি ধরে নিই আপনি মূর্তি চুরি করেননি। তাহলেও তো নীরজের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মূর্তিটি বেচে দিতে পারলে ২০ কোটির দালালিও তো নেহাত কম নয়।
ঘরে ঢোকে নীরজ।
অসীমঃ সুদর্শন বাবু আপনি একটু বাইরে যান। কিন্তু বাড়ি ছেড়ে বাইরে যাবার চেষ্টা করবেন না।
নীরজঃ কেন বারবার আমাকে ডেকে সময় নষ্ট করছেন ?
প্রফেসর বাগচিঃ আপনার দুর্গাপুরের গাড়ির শো রুমটা কেমন চলছে নীরজ বাবু।
নীরজঃ মানে ?
প্রফেসর বাগচিঃ যার সঙ্গে ব্যবসা করলেন সে পিছন থেকে ছুরি মারল। বাবার কাছ থেকে পয়সা চাইলে সে দিতে চায় না। ঘরে পড়ে আছে মূর্তি। খরিদ্দারও তৈরি। একবার বেঁচে দিতে পারলে কড়কড়ে ২০ কোটি টাকা।
নীরজঃ আপনি কিন্তু আপনার লিমিট ক্রস করছেন মিষ্টার বাগচি।
প্রফেসর বাগচিঃ ওটাই তো মুশকিল নীরজ বাবু। আমার লিমিটটাই তো আমি জানি না। আমি শুধু একটা সম্ভাবনার কথা বলছিলাম।
নীরজঃ এরপর থেকে আমার সঙ্গে কথা বলতে এলে প্রমাণ নিয়ে কথা বলবেন। আপনার সম্ভাবনার কথা শোনার মত সময় আমার নেই।
রাত তখন দুটো। হঠাৎ একটা ফোন আসে সমিতা বাগচির মোবাইলে।
সমিতাঃ (ঘুম জড়ানো গলায়) হ্যালো ? কে ? ও …কী হয়েছে ? মানে ? দাড়া আমি তোর জামাইবাবুকে ডাকছি। কী গো শুনছো? কী গো ? আরে অসীম ফোন করেছে।
প্রফেসর বাগচিঃ (ঘুমের গলায়) ওকে বলে দাও আমি ফিসফ্রাইয়ের থেকে কবিরাজি বেশি ভালোবাসি।
সমিতাঃ বোঝ কাণ্ড। আরে সুদর্শন বাবু খুন হয়েছেন।
প্রফেসার বাগচি ধরমর করে ওঠেন।
প্রফেসর বাগচিঃ কে খুন হয়েছেন ?
সমিতাঃ সুদর্শন বাবু।
প্রফেসর বাগচিঃ এই সময়েও তোমার ভাই ফিসফ্রাই আর কবিরাজি খাওয়ানোর কথা বলছে !
সমিতাঃ আঃ তুমি থামবে। অসীম বলল ও কাল সকালে আসবে, যেতে হবে।
প্রফেসর বাগচিঃ তুমি কলেজ অফ করবে ?
সমিতাঃ না তুমি বরং অসীমের সঙ্গে চলে যেও।
ত্রিপাঠীজির বাড়ি। পুলিশ ইতিমধ্যে বডিটার চারপাশে ফিতে দিয়ে ঘিরে রেখেছে। বাড়ির ভিতরে পড়ে আছে সুদর্শন বাবুর দেহ। উল্টো ভাবে পড়ে আছে। মাথার পিছনে গভীর ক্ষত। ভোতা কিছু দিয়ে মারা হয়েছে।
অসীমঃ অফিসার বডিটা পোস্টমর্টেম এর জন্য পাঠান। দেখবেন কেউ যেন কোনও জিনিশ না ছোঁয়। আরে জামাই বাবু কোথায় গেলেন ?