কস্তুরী সেনগুপ্ত
ঋগ্বেদে ‘ব্রহ্মবাদিনী’ ২৭ জন নারী ঋষির নাম পাওয়া যায়। এরমধ্যে ১০ জন এমন ব্রহ্মবাদিনী আছেন, যাঁদের নামে প্রচলিত যেসব মন্ত্র আছে, সেই সব মন্ত্রের রচয়িতা ( দ্রষ্ট্রী) তাঁরাই। শুধুমাত্র নানান দেবদেবীর পূজা এবং স্তুতিমন্ত্র ছিল তাঁদের মন্ত্রগুলোর প্রধান বিষয়। এছাড়া, নিজেদের গার্হস্থ্য জীবনের সুখ-দুঃখের বিভিন্ন অনুভূতি প্রকাশ করতেন মন্ত্রগুলোর মাধ্যমে।
১০ জন ব্রহ্মবাদিনীর মধ্যে একজন হলেন অম্ভৃণ ঋষির কন্যা বাক্। তিনি ঋগ্বেদ সংহিতার দশম মণ্ডলের ১২৫ সূক্তের আটটি মন্ত্র রচনা করেন। এই মন্ত্রগুলো ‘দেবীসূক্ত’ নামে প্রচলিত। আমরা যে চণ্ডীপাঠ করে থাকি, তার আগে এই দেবীসূক্ত পাঠের বিধি আছে।
অত্রি মুনির গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন বিশ্ববারা। ঋগ্বেদ সংহিতার পঞ্চম মন্ডলের দ্বিতীয় অনুবাকের অষ্টাবিংশ সূক্ত রচনা করেন বিশ্ববারা। এই সূক্তে ছ’টি ঋক্ আছে – ভাষার মাধুর্যে ও ভাবসম্পদে সেগুলো অতুলনীয়।
বিশ্ববারার মতো অত্রি বংশে জন্মগ্রহণ করেন অপালা। ত্বকের রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে স্বামী তাঁকে পরিত্যাগ করেন। তিনি সারাজীবন পিতৃ- তপোবনে ঈশ্বর আরাধনায় কাটিয়েছিলেন। কথিত আছে, অপালার পিতার শস্যক্ষেত্র তেমন উর্বর ছিল না। অপালা ইন্দ্রদেবের আরাধনা করে বর লাভ করেন । এর ফলে তিনি নিজে ত্বক রোগ থেকে মুক্ত হন এবং পিতার শস্যহীন জমি শস্যশালী হয়ে ওঠে। ঋগ্বেবেদের অষ্টম মন্ডলের ৯১ সূক্তের আটটি ঋক্ অপালা রচনা করেছিলেন।
প্রসিদ্ধ ঋষিবংশে জন্ম নারী- ঋষি ‘ঘোষা’র দৃষ্টমন্ত্র সংখ্যায় সর্বাধিক। ঋগ্বেবেদের দশম মণ্ডলের দুটি বিশেষ সূক্ত তাঁর দ্বারা রচিত বা দৃষ্ট।
গোধা, লোপামুদ্রা, শাশ্বতী, অগস্ত্যর ভগিনী (অজ্ঞাতনাম্নী), বাসুক্রের পত্নী ( অজ্ঞাতনাম্নী), রোমশা এই ৬ জন মহিলা ঋষিদের নামে সম্পূর্ণ কোন সূক্ত নেই– শুধু কয়েকটি ঋক্ মন্ত্র আছে।
উপনিষদের যুগে আমরা দুজন বিদূষী নারীকে পাই। যাঁরা যাজ্ঞবল্ক্যের মত ঋষিকে দার্শনিক আলোচনায় ব্যাপৃত রাখতে সমর্থ হয়েছিলেন। যার মধ্যে একজন হলেন তাঁর পত্নী মৈত্রেয়ী। ব্রহ্মজ্ঞান লাভ – অমৃতত্ব লাভ করা যায় সেই বিষয়ে মৈত্রেয়ীকে উপদেশ দিয়েছিলেন যাজ্ঞবল্ক্য। অপরজন হলেন গার্গী। ব্রহ্মবিষয়ক জ্ঞান ও সৃষ্টির আদি কারণ কী সেই সম্পর্কে প্রশ্ন করেন তিনি যাজ্ঞবল্ক্যর মত ঋষিকে। এই দুই গভীর সত্য-সন্ধিৎসু নারীর সম্বন্ধে বৃহদারণ্যক উপনিষদে এই বিবরণ পাই আমরা।