নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজ্যে বিবেচনাধীন ভোটারদের দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ করলো নির্বাচন কমিশন। প্রকাশিত তালিকা নিয়ে প্রথমবারের মতোই ধোঁওয়াশা অব্যাহত। অর্থাৎ এবারও মিললো না বিস্তারিত তথ্য। তাই কত মামলার নিস্পত্তি হল, কত নাম বাদ পড়লো সেই পরিসংখ্যান দিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন।
রাজ্যে বিচারাধীন মামলার দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশিত হল শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ। তালিকাটি দেখা যাবে নির্বাচন কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ওয়েবসাইটে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে ৩৭ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে কত নাম বাদ পড়ল, তা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য প্রকাশ্যে আনেনি নির্বাচন কমিশন। ফলে প্রকাশিত তালিকা নিয়ে প্রথমবারের মতো এবারও ধোঁওয়াশা রয়ে গেল। অর্থাৎ এবারও মিললো না বিস্তারিত তথ্য। তাই কত মামলার নিস্পত্তি হল, কত নাম বাদ পড়লো সেই পরিসংখ্যান দিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত মোট নিষ্পত্তি হয়েছে প্রায় ৩৭ লক্ষ। যেখানে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় বাদ পড়েছে প্রায় ১০ লক্ষ নাম। তিনি বলেন, “বিবেচনাধীন ভোটারদের নাম বিচারকরা যাচাই করার পর ই-সাইন করে দিলে তারপরই তালিকা আপলোড করা সম্ভব হয়। তালিকা দিল্লিতে পাঠান বিচারপতিরা। সেখান থেকে সার্ভারে আপলোড করা হয়। একবার সই হওয়ার পরেও বেশ কিছুটা সময় লাগে। কারণ, বুথ ভিত্তিক তালিকা আপলোড করতে সময় লাগে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা। সেই সমস্ত প্রক্রিয়া সেরে তালিকা প্রকাশ করতে কিছুটা সময় লাগবে কমিশনের।”
বিচার বিভাগীয় নিষ্পত্তির জন্য পাঠানো ৬০ লক্ষ মামলা বাদ দিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয় রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। তখন নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, বিবেচনাধীন ভোটারদের নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া যে ভাবে এগোবে সেইমতো সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ করবে কমিশন। সেইসঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হয়, বিচার প্রক্রিয়ার সময় যাঁদের নাম বাদ পড়বে তাঁরা তথ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। এই উদ্দেশ্যে গঠিত হয় ১৯টি ট্রাইব্যুনাল। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, যাঁদের নাম বাদ পড়বে তাঁদের আইনি সহায়তা দেবে তৃণমূল কংগ্রেস।
গত নভেম্বরে পশ্চিমবঙ্গের জন্য SIR-এর বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার আগে, রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭,৬৬,৩৭,৫২৯। গত বছরের ডিসেম্বরে প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা থেকে মোট ৫৮,২০,৮৯৯টি নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায়, বাদ দেওয়া নামের সংখ্যা বেড়ে ৬৩,৬৬,৯৫২ হয়েছে। ২৩ মার্চ মধ্যরাতে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশিত হওয়ার পর জানা যায়, বাদ দেওয়া ভোটারের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৭৭ লক্ষে দাঁড়িয়েছে।