নিজস্ব প্রতিনিধি : বাংলায় নিজের পাড়া, নিজের বাড়ি ও পরিবার ছেড়ে বেঙ্গালুরুতে পড়তে আসা বা ক্যারিয়ার তৈরি করতে আসা কিছু তরুণ-তরুণী মাঝে-মধ্যেই আড্ডা দিতে একজোট হন। দল বেঁধে বেড়াতে যান। হৈহুল্লোড় করেন। প্রবাসে খুঁজে নেন নতুন বন্ধু। কিন্তু এই আত্মনির্ভরতা, মাসের শেষে মোটা অঙ্কের মাইনে, ঝকঝকে শপিং মল, বাবা-মায়ের চোখ রাঙানির তোয়াক্কা না করে লং ড্রাইভ, নাইট আউট, পাব হপিং… এসবের মধ্যেও কোথাও যেন শিকড়ের টান অনুভব করতে থাকেন তাঁরা। আর ঠিক তখনই ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ এই মানসিকতায় ভর করে ১৩ বছর আগে বিনয় চৌধুরী এবং অনিন্দিতা চৌধুরী গড়ে তোলেন একটি পরিবার, যার নাম- হট্টগোল।

তাঁদের এই পরিবারে সমবয়সিরা যেমন আছেন, তেমনি বয়সে বড় কম এমন বাঙালিও সামিল হয়েছেন এই পরিবারে। তাঁদের হাত ধরেই হট্টগোলের কালীপুজোর শুরু। যা অধুনা বেঙ্গালুরুর অন্যতম খ্যাতনামা ও জনপ্রিয় হট্টগোলের কালীপুজো নামে পরিচিত। কিন্তু যেখানে বাঙালিরা জড়ো হন সেখানেই জেগে ওঠে বারো মাসে তেরো পার্বণ। তাই শ্যামা মায়ের আশীর্বাদধন্য হট্টগোল পরিবার ধীরে ধীরে তার শাখা-প্রশাখা বিস্তার করতে থাকে অতি দ্রুত। একঝাঁক উৎসাহী মন ও উদ্যমী প্রাণ একে একে সফলভাবে আয়োজন করতে থাকে সরস্বতী পুজো, পয়লা বৈশাখ, রবীন্দ্র-নজরুল সন্ধ্যা, মহালয়া, পিকনিক, ফ্যামিলি ট্রিপ, পটলাক, ফুটবল টুর্নামেন্টের মতো বিভিন্ন পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

শুধু তাই নয়, হট্টগোল-এর ট্যাগলাইন ‘আমরা শান্ত থাকিনা’ চোখে পড়লেই থমকে যেতে হয়। শান্ত, না স্থির এটা ভাবতে গেলেই নজর পড়ে তাঁদের কাজকর্মের দিকে। আর তখনই উঠে আসে হট্টগোলের নানান সেবামূলক কর্মসূচি। রক্তদান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত দুস্থদের পাশে দাঁড়ানো, নানান সমাজকল্যাণমূলক কাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তাঁরা। তাই তো ব্যাঙ্গালুরুতে হট্টগোল মানে মানবিক উচ্চারণ। তাই সে হয়ে উঠেছে এখানকার বাঙালি প্রবাসীদের ভরসার জায়গা। একটি নিশ্চিন্ত ঠিকানা। যার জনপ্রিয়তা ও ব্যাপ্তি ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের মুখে মুখে। বিনিময়ে হট্টগোল-এর মাথায় উঠেছে ‘সেরার সেরা কালীপুজো’-র মুকূট, বিভিন্ন পুরস্কার।


২০২৫-এর আলোর উৎসব দীপাবলী ও কালীপুজোতে যারা পরিবারের থেকে দূরে, বেঙ্গালুরুতে আছেন, তাঁদের সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে হট্টগোল। আগামী ১৯ ও ২০ অক্টোবর তাঁরা হট্টগোল পরিবারের সঙ্গে মিলিত হয়ে মাতৃ আরাধনায় অংশ নিতে পারেন। রাত জেগে কালীপুজো, পাড়ার প্যান্ডেল, ভোগের খিচুড়ি কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান — বাংলার পুজোর স্বাদ পান হট্টগোলের মণ্ডপে।
