ওঙ্কার ডেস্ক : কর্নাটকের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ও রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের মন্তব্যে অস্বস্তিতে কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেস। তিনি বলেছেন, “ আমি চিরদিন এই দলীয় পদে থাকতে পারি না। ইতিমধ্যেই সাড়ে পাঁচ বছর হয়ে গেছে এবং মার্চ মাসে ছয় বছর হবে।” মঙ্গলবার বেঙ্গালুরুতে দলের এক অনুষ্ঠানে তিনি এও বলেন, “যারা কঠোর পরিশ্রম করে তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকে। আমরা কি এটা ভুল বলতে পারি ?” শিবকুমারের এই বক্তব্যে অন্যরকম ইংগিত পাচ্ছে প্রদেশ নেতৃত্ব।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে শিবকুমারের সমর্থকরা সিদ্দারামাইয়াকে সরিয়ে শিবকুমারকে মুখ্যমন্ত্রী করার দাবি জানিয়ে আসছে। এই নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের উপর যথেষ্ট চাপ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ডি কে শিবকুমারের ইস্তফা দেওয়ার ইংগিত কর্নাটক কংগ্রেসের অন্তর্দলীয় কোন্দলকে সুকৌশলে সমনে টেনে আনা হল বলে মনে করছে দলের ওয়াকিবহাল মহল। তবে শিবকুমার তাঁর সমর্থকদের পুনরায় আশ্বস্ত করেছেন, “চিন্তা করো না… আমি সামনের সারিতে থাকব।”
তিনি বলেন, ” আমার মেয়াদে আমি চাই রাজ্যে ১০০টি কংগ্রেস অফিস খোলা হোক। উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি এই দায়িত্ব ছেড়ে দিতে চেয়েছিলাম…কিন্তু রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গে আমাকে চালিয়ে যেতে বলেছিলেন। তাই, আমি আমার কর্তব্য পালন করেছি।” অনুষ্ঠানের পর, শিবকুমার সাংবাদিকদের বলেন যে তিনি একটি উদাহরণ স্থাপন করার চেষ্টা করছেন। তাই তিনি বলেছেন “কেউ স্থায়ী হতে পারে না…”। রাজ্য রাজনীতির অনেকেই এখন মনে করছেন, এটা কোনো নীতিবাক্য নয়, বরং তাঁর মুখ্যমন্ত্রীত্বের দাবিকে দৃঢ় করার একটা স্লোগান।
সিদ্দারামাইয়া বনাম ডিকে শিবকুমারের দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। ২০২৩ সালে কার্যত শিবকুমারের সক্রিয়তায় কংগ্রেস কর্নাটকে ক্ষমতায় আসে তখন ‘এক ব্যক্তি এক পদ’-এর কারণ দেখিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ডি কে শিবকুমারকে বাদ দিয়ে সিদ্দারামাইয়াকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়। তারপরই প্রদেশ কংগ্রেসে টানাপোড়েন শুরু হয়। কংগ্রেস হাইকমান্ডের শর্ত সাপেক্ষে শিবকুমার প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতির পাশাপাশি উপমুখ্যমন্ত্রী হন। মুখ্যমন্ত্রী করা হয় রাজ্যের প্রান্তিক সম্প্রদায় এবং সংখ্যালঘুদের মুখ সিদ্দারামাইয়াকে। তবে দলের তরফে একটা সমঝোতা হয় যে পূর্ণ মেয়াদ আধাআধি করে শেষ আড়াই বছর মুখ্যমন্ত্রী হবেন শিবকুমার। কিন্তু পরবর্তীকালে সিদ্দারামাইয়া বলতে থাকেন,তিনি কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করবেন।

২০২৫ সালের জুনে ডিকেএস-এর শিবির সেই ‘চুক্তি’র কথা তোলে। শর্ত অনুযায়ী এই মাসেই সিদ্দারামাইয়ার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এই নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় ফের আসরে নামেন রণদীপ সুরজেওয়ালা। বলাবাহুল্য যে রণদীপই দলীয় কোন্দলের মীমাংসায় নেমে এই চুক্তি করেছিলেন।
যতদূর জানা যাচ্ছে, কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী পরিবর্তনের কথা ভাবছে না কংগ্রেস। কিন্তু ডিকেএস-এর শিবির তা মানতে নারাজ। তাদের সাফ কথা, রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্বের পরিবর্তনের দাবি চালিয়ে যাবে। ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তির সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ডিকেএস-এর শিবির। এই পরিস্থিতিতে শিবকুমারের এহেন মন্তব্য দলের মধ্যে অস্বস্তি বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।
