নিজস্ব সংবাদদাতা : ভোটের আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙরে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লাকে শনিবার ১৪ দিনের এনআইএ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিল আদালত। আগামী ১৯ জুন তাঁকে ফের এনআইএ আদালতে হাজির করা হবে। শুক্রবার রাতে গ্রেফতারের পর জাতীয় তদন্ত সংস্থা-র গোয়েন্দারা শওকতের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন এবং একটি পেনড্রাইভ উদ্ধার করে। আদালত এই দুটি জিনিসের ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য এনআইএ-র আবেদনও মঞ্জুর করেছে।
এই বিস্ফোরণের ঘটনায় এর আগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছিল এনআইএ। তাদের মধ্যে দুজন এখন জেল হেফাজতে এবং তৃতীয় ব্যক্তি এখনও এনআইএ হেফাজতে রয়েছেন। বিচারক ওই তিন ব্যক্তির কাছ থেকে উদ্ধার করা ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলির ফরেনসিক পরীক্ষার আবেদনও মঞ্জুর করেছেন।
কলকাতার বিশেষ এনআইএ আদালতে হাজির করার পর শওকতের আইনজীবী তাঁর জামিনের আবেদন পেশ করেন। তবে, এনআইএ-র আইনজীবী এই আবেদনের বিরোধিতা করে যুক্তি দেন, শওকত মোল্লা প্রাক্তন বিধায়ক হলেও ভাঙড় অঞ্চলের একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি।, জামিনে মুক্তি পেলে তিনি মামলার প্রমাণ নষ্ট করার এবং সাক্ষীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারেন। শওকাতের আইনজীবী বলেন, যেহেতু তাঁর মক্কেল পূর্ববর্তী রাজ্য সরকারের কাছ থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পেতেন, তাই বোমা বিস্ফোরণ মামলায় তাঁর জড়িত থাকা সম্ভব নয়। পাল্টা যুক্তিতে এনআইএ-র আইনজীবী বলেন, বিস্ফোরণের পর শওকাত নিয়মিত অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন এবং তাদের নির্দেশ দিতেন।
এনআইএ-র বক্তব্য, মামলার তদন্ত এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। বিস্ফোরণের পরিকল্পনা, নেপথ্যের যোগাযোগ এবং অভিযুক্তদের ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে শওকত মোল্লাকে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে আদালতকে জানায় এনআইএ। সেই কারণেই তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তদন্ত চালানোর আবেদন জানিয়েছে সংস্থা। অবশেষে, বিশেষ এনআইএ আদালতের বিচারক আইনজীবীর যুক্তি গ্রহণ করে সওকাতকে ১৪ দিনের জন্য এনআইএ হেফাজতে পাঠান।
শুক্রবার, শওকাত দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার উপকূলীয় সীমান্ত দিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে, সীমান্ত সংলগ্ন চুনাখালী এলাকায় স্থানীয় গ্রামবাসীরা তাঁকে দেখতে পেয়ে ধাওয়া করে। সেই মুহূর্তে তিনি পালাতে সক্ষম হন।
এনআইএ গোয়েন্দারা সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে কড়া নজরদারি রাখছিল। জানা গেছে, শওকত স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করার জন্য কলকাতার নিউ টাউনে এনআইএ-র দপ্তরে পৌঁছানোর সময়, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুরের এক অজ্ঞাত স্থান থেকে মাঝপথেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।