ওঙ্কার ডেস্ক: পুরভোটের আগে সংগঠনে একাধিক রদবদল করল বঙ্গ বিজেপি। সোমবার দলের নতুন মুখপাত্রদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বেশ কিছু পুরনো মুখকে ফেরানো হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে দীর্ঘদিন পর মুখপাত্রের দায়িত্বে ফিরেছেন সায়ন্তন বসু এবং কেয়া ঘোষ।
নতুন তালিকায় জায়গা পেয়েছেন দলের সোশাল মিডিয়া সেলের দায়িত্বে থাকা সপ্তর্ষি চৌধুরীও। ফলে তাঁর আগের দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বঙ্গ বিজেপির সোশাল মিডিয়া কনভেনর করা হয়েছে উপমন্যু ভট্টাচার্যকে। অন্যদিকে আইটি সেলের আহ্বায়ক হয়েছেন জয় মল্লিক। বিজেপির বাংলা দখলের লক্ষ্য নতুন নয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দল জোরদার প্রচার চালিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা দখল সম্ভব হয়নি। সেই সময় দলের একাধিক পুরনো নেতা-কর্মী কঠিন পরিস্থিতিতেও সংগঠনের পাশে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিজেপির অন্দরে ‘আদি’ ও ‘নব্য’ শিবিরের দ্বন্দ্ব সামনে আসে। তার প্রভাব পড়েছিল দলের সংগঠনেও। অনেক পুরনো ও একনিষ্ঠ কর্মীর সঙ্গে নেতৃত্বের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে দলের অন্দরে আলোচনা ছিল।
২০২৬ সালে বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের ভূমিকায়ও নজর ছিল। দলের পুরনো নেতাদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার বার্তা তিনি একাধিকবার দিয়েছেন। নতুন মুখপাত্র তালিকায় সেই বার্তার প্রতিফলন দেখা গেল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। দীর্ঘ বিরতির পর সায়ন্তন বসু এবং কেয়া ঘোষকে ফের মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একসময় রাজ্যে বিজেপির সংগঠন বিস্তারের কঠিন সময়ে তাঁরা সক্রিয়ভাবে দলের হয়ে মাঠে ছিলেন। নতুন তালিকায় মুখ্য মুখপাত্র করা হয়েছে দেবজিৎ সরকারকে। মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রীতেশ তিওয়ারি, প্রণয় রায়, ড. তন্ময় মুখোপাধ্যায়, সপ্তর্ষি চৌধুরী, ওফেলিয়া সিংঘ, অঙ্কন দত্ত, মেঘা সেন রায়, নিখিলপ্রসাদ সিংহ এবং শমীক দাসগুপ্ত।
পুরভোটের আগে এই সাংগঠনিক রদবদলকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। একদিকে পুরনো নেতাদের ফের দায়িত্ব দেওয়া, অন্যদিকে সোশাল মিডিয়া ও আইটি সেলেও নতুন দায়িত্ব বণ্টন। ফলে আগামী দিনে বিজেপির রাজনৈতিক প্রচারে এই নতুন টিমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।