অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: অভিষেকের জন্মদিনের আগের রাতে আচমকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কালীঘাট চত্বর। কার্যত সাংসদের বাড়ির সামনেই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ। এই অবস্থায় বিজেপির বিরুদ্ধে আঙ্গুল তুলে সরব হয়েছেন অভিষেক। অন্যদিকে ঘটনার নেপথ্যে ‘দলবদলু গদ্দার’দের ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মমতা শিবিরের বিধায়ক কুণাল ঘোষ।
তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষের বক্তব্য, হামলাকারীরা বাইরের কেউ নয়। তারাই একসময় অভিষেকের সবচেয়ে কাছের লোক বলে নিজেদের জাহির করত। এখন ক্ষমতার পালা বদলাতেই তারা শিবির বদলে ফেলেছে। কুণালের ভাষায়, “যারা গত বছরও জন্মদিনে কেক নিয়ে এসে ছবি তুলতে হুড়োহুড়ি করত, দাদা দাদা করে পায়ে পড়ে যেত, তারাই আজ উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে অভিষেককে গাল দিচ্ছে। এটা ধান্দাবাজি ছাড়া আর কিছু নয়। এরা গিরগিটির চেয়েও দ্রুত রং বদলায়।”
তাঁর আরও দাবি, ৪ মে ভোটের ফল বেরোনোর দিন পর্যন্ত এই লোকগুলোই অভিষেককে দেবতা বানিয়ে রেখেছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈলাক্ত পোস্টের বন্যা বইয়ে দিয়েছিল। এখন দল ক্ষমতায় নেই দেখে অন্য ঠিকানায় গিয়ে দালালি করছে। কুণাল অবশ্য এও মনে করিয়ে দেন, সত্যিকারের কর্মীরা কখনও এভাবে সামনে আসেন না। তাঁরা দূর থেকে শুভেচ্ছা জানিয়েই খুশি। তাঁদের বেশিরভাগই আজও দলের সঙ্গে আছেন।
অভিষেকের জন্মদিন ৭ নভেম্বর। সেই উপলক্ষে শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকেই কালীঘাটে তাঁর বাড়ির সামনে জড়ো হতে শুরু করেন সমর্থকেরা। অভিযোগ, রাত ২টো নাগাদ একদল যুবক সেখানে এসে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে থাকে। অভিষেকের ছবি লাগানো ব্যানার, কাটআউট ভেঙে ফেলা হয়। তৃণমূল কর্মীরা প্রতিবাদ করতেই দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, দু’পক্ষেরই বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। অবস্থা সামাল দিতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়।
এরপরই রাস্তায় বসে পড়েন অভিষেক নিজে। পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। তাঁর অভিযোগ, পেরেক পোঁতা লাঠি দিয়ে মারা হয়েছে তাঁর কর্মীদের। অন্তত পাঁচ-ছ’জন গুরুতর জখম। শনিবার সকালে পুলিশের মধ্যস্থতায় তিনি বাড়িতে ফেরেন।
এমতাবস্থায় ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে একহাত নিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমি ৪৫ বছর ধরে ভবানীপুরে থাকি। কংগ্রেস, বাম, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়, সব দেখেছি। কিন্তু কোনও বিধায়কের মদতে এভাবে গুন্ডামি হতে আগে দেখিনি। অভিষেককে নিচু করতে গিয়ে শুভেন্দু নিজেই কত নিচে নেমেছেন, সেটা সবাই দেখল। গোটা ভবানীপুরে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।”
অন্যদিকে বিজেপি অবশ্য পুরো ঘটনার দায় অস্বীকার করেছে। রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, “হারের পর মানুষ এসব কথাই বলে।” রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিংহ বলেন, “বিজেপির সঙ্গে এই ঘটনার কোনও যোগ নেই। তৃণমূলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ নিজেরাই বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।”
ভবানীপুরের বিজেপি নেতা ননী ধরের যুক্তি আবার আলাদা। তাঁর বক্তব্য, “কালীপুজোর আগে রাতে পটুয়াপাড়া থেকে ঠাকুর নিয়ে আসেন এলাকার হিন্দু পরিবারগুলো। সেই সময় রাস্তা আটকে জন্মদিন পালন করলে মানুষ যাবে কোথা দিয়ে? বছরের পর বছর ধরে এটাই তো চলে আসছে।”