ওঙ্কার ডেস্ক: প্রয়াত হলেন রাজ্যের প্রাক্তন বিধায়ক পরশ দত্ত। শুক্রবার রাত ৯টা ২০ মিনিটে দক্ষিণ কলকাতার লেক গার্ডেন্সে নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, শনিবার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। তাঁর মৃত্যুতে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
বর্ণময় রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার দলবদল করেছেন পরশ দত্ত। তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়েছিল বিজেপির হাত ধরে। পরে দলের নেতৃত্বের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। ২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে বেহালা পূর্ব কেন্দ্র থেকে লড়াই করেন। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই বিধায়ক নির্বাচিত হন। তবে তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ২০০৪ সালে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর কংগ্রেসে যোগ দেন পরশ দত্ত। ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ফের বেহালা পূর্ব কেন্দ্র থেকেই কংগ্রেসের প্রার্থী হন। কিন্তু সেবার নির্বাচনে জয় অধরা থেকে যায়। তৃতীয় স্থানেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল তাঁকে।
২০০৭ সালে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছিল রাজ্য রাজনীতি। সেই সময় পুরনো দল তৃণমূলে ফিরে আসেন পরশ দত্ত। এরপর ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দল কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করে দল। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে দ্বিতীয়বার বিধায়ক হন তিনি। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও জগদ্দল কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন পরশ। সেবারও জয় পান তিনি। ফলে পরপর দু’বার ওই কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন তিনি।
তবে ২০১৬ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে সরে যান প্রবীণ নেতা। বিশেষ করে কোভিড পরিস্থিতির পর তাঁকে আর আগের মতো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দেখা যায়নি। শারীরিক অসুস্থতা এবং অন্যান্য কারণে নিজের বিধানসভা কেন্দ্র জগদ্দলেও যাতায়াত কমিয়ে দিয়েছিলেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল আর তাঁকে প্রার্থী করেনি। তারপর থেকেই কার্যত জনসমক্ষে এবং সক্রিয় রাজনীতির বাইরে চলে যান পরশ দত্ত।