ওঙ্কার ডেস্ক: নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বোর্নো প্রদেশ আবারও রক্তাক্ত হল ভয়ংকর জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারামের তাণ্ডবে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে দারুল জামা গ্রামে হানা দেয় সশস্ত্র জঙ্গিরা। মোটরসাইকেলে চেপে এসে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ৬০ জনকে হত্যা করে তারা। নিহতদের মধ্যে স্থানীয় গ্রামবাসী ছাড়াও ৬ জন সেনা সদস্য রয়েছেন। হামলার পর শতাধিক বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় জঙ্গিরা। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গোটা গ্রাম।
হামলার ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে আতঙ্কে বহু মানুষ গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। দারুল জামার এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, “এক মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু শেষ হয়ে গেল। গুলি আর আগুনে গ্রাম ভরে গেল চিৎকারে।” কয়েক বছর আগে বোকো হারামের নিরন্তর তাণ্ডবের জেরে গ্রামবাসীরা এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে সম্প্রতি ফের গ্রামে ফিরেছিলেন তারা। কিন্তু নতুন করে জঙ্গি আক্রমণে ভেঙে পড়েছে সেই আস্থা।
শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বোর্নো প্রদেশের গভর্নর বাবাগান জুলুম। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, “দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। গ্রামে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হচ্ছে।” তবে বাস্তবে প্রশাসনের প্রতি আস্থা রাখতে পারছেন না স্থানীয়রা। বহু পরিবার ইতিমধ্যেই নিরাপত্তাহীনতার কারণে গ্রাম ছাড়তে শুরু করেছেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০০৯ সালে পশ্চিমী শিক্ষার বিরোধিতা ও শরিয়ত আইন প্রতিষ্ঠার দাবিতে অস্ত্র তুলে নেয় বোকো হারাম। তারপর থেকেই নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ সন্ত্রাস ছড়িয়েছে তারা। রাষ্ট্রসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ পর্যন্ত এই গোষ্ঠীর হামলায় ৩৫ হাজারেরও বেশি সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ঘরছাড়া হয়েছেন প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ। নাইজেরিয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী নাইজারেও ক্রমশ বাড়ছে তাদের প্রভাব।
দারুল জামায় শুক্রবার রাতের এই হত্যালীলা ফের প্রমাণ করল, আফ্রিকার অন্যতম বৃহৎ এই দেশে বোকো হারাম এখনও প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে সাধারণ মানুষের জীবনে অস্থিরতা ও মৃত্যু ডেকে আনছে।
