ওঙ্কার ডেস্ক : তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা স্তরে সাংগঠনিক রদবদলের জেরে ফের রাজনৈতিক পারদ চড়ল বনগাঁয়। দলের জেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল বর্ষীয়ান নেতা শ্যামল রায়কে। তাঁর জায়গায় নতুন দায়িত্ব পেলেন অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ মমতা ঠাকুর। আর এই সিদ্ধান্তের পরেই পদচ্যুত শ্যামল রায় প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন দলের একাংশের বিরুদ্ধে।
শ্যামল রায়ের সাফ কথা—তিনি লবিবাজি ও কাঠিবাজির শিকার। তাঁর বক্তব্য, “দল পুরনো ও নতুন কর্মীদের একসঙ্গে নিয়ে চললে ভালো হয়। কিন্তু এখানকার যাঁরা নতুন, তাঁরা হয়তো চান না আমি থাকি। তাঁরা মনে করেন আমি থাকলে দলের ক্ষতি হবে। আমি স্পষ্টভাবে বলছি, আমি লবিবাজির ও কাঠিবাজির শিকার।” এই মন্তব্যে ফের উঠে এলো তৃণমূলের অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের প্রসঙ্গ।
তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্য নেতৃত্ব শুক্রবার রাজ্যজুড়ে একাধিক জেলার সংগঠনে রদবদল করেছে। বহু জেলাতেই নতুন মুখদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বনগাঁ জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাসকে বহাল রাখা হলেও জেলা চেয়ারম্যান পদে বড় পরিবর্তন হয়েছে। শ্যামল রায়ের জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী মুখ মমতা ঠাকুর।শ্যামল রায়ের এমন বিস্ফোরক মন্তব্যের পর জেলা সভাপতির প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। বিশ্বজিৎ দাস বলেন, “শ্যামলদা দলের একজন অভিজ্ঞ ও প্রাক্তন সৈনিক। ওনার শরীর ভালো নেই, সব জায়গায় যেতে পারেন না। সামনে ২০২৬-এর কথা মাথায় রেখেই দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেটা হয়েছে সেটা ভালো হয়েছে। শ্যামলদাকে সম্মান দিয়েই দলের কাজে রাখা হবে।”রাজনৈতিক মহলের মতে, মতুয়া ভোটব্যাঙ্ককে আরও সুসংহত করতে মমতা ঠাকুরকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে শ্যামল রায়ের সরাসরি ‘কাঠিবাজি-লবিবাজি’র অভিযোগে ফের আলোচনায় দলীয় গোষ্ঠীকোন্দল।
তবে প্রশ্ন উঠছে, সাংগঠনিক রদবদল কি শুধুই পরিকল্পনার অংশ, নাকি এর নেপথ্যে লুকিয়ে আছে অভ্যন্তরীণ চাপানউতোর ও মতুয়া ভোটব্যাঙ্কের কৌশলগত চর্চা?
