ওঙ্কার ডেস্ক : ব্রাজিলিয়ান মডেল বিতর্কের নয়া মোড় ! যাঁকে নিয়ে এত শোরগোল এবার সেই ব্রাজিলিয়ান মহিলা মুনেশ একটি ন্যাশনাল চ্যানেলে মুখ খুললেন। বললেন, “আমার কাছে যে কার্ড আছে তাতে আমার ছবি আছে… রাহুল গান্ধী যে কার্ডটি দেখিয়েছেন তাতে নেই। আমি আমার ভোট দিয়েছি। আমি জানি না (জাল কার্ডে) কার ছবি আছে”। তাঁর ভোটার কার্ড নিয়ে বুধবার রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, গত বছর হরিয়ানার রাইতে ২২ বার ভোট দেওয়া হয়েছিল এক ব্রাজিলিয়ান ভোটারের কার্ড থেকে। এর জন্য তিনি নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন। প্রসঙ্গত, হরিয়ানার রাইতে বিজেপির কৃষ্ণা গাহলাওয়াত কংগ্রেসের ভগবান আন্তিলকে ৪,৬৭৩ ভোটে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন।
জবাবে, বিহারে ভোট শুরুর কয়েক ঘন্টা আগে “ভুয়ো বিষয়” তুলে বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার সমালোচনা করেছেন বিজেপির কিরেন রিজিজু। তিনি বলেন, “বিহারে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই, তাই রাহুল গান্ধী হরিয়ানায় নিয়ে পড়লেন।”
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, হরিয়ানার নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনার সময় কংগ্রেস কোনও প্রাসঙ্গিক আপিল বা আপত্তি দায়ের করেনি। তাই কমিশন এইসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। উলটে নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালীন কংগ্রেসের নিজস্ব দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, হরিয়ানার নির্বাচনে ব্যাপক ভোটার জালিয়াতি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হরিয়ানায় ২৫ লক্ষ ভোট জালিয়াতি করা হয়েছে। সেই নির্বাচনে কংগ্রেস বিজেপির চেয়ে প্রায় ৮৩,০০০ ভোট কম পেয়েছিল। তিনি হিসেব কষে দেখিয়েছিলেন, “হরিয়ানার প্রতি আটজন ভোটারের মধ্যে একজন ভুয়ো, যা মোট ভোটারর… ১২.৫ শতাংশ।
কংগ্রেস নেতা এরপর মুনেশের ‘ভোটার আইডি কার্ড’ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। সেই কার্ড নিয়ে যখন প্রশ্ন ওঠে যে ছবিতে থাকা মহিলাটি হরিয়ানার নন, তখন রাহুল বলেন, “কিন্তু তিনি ২২ বার ভোট দেন… তার একাধিক নাম আছে: সীমা, সুইটি, সরস্বতী, রশ্মি, বিমলা।” রাহুল বলেন, “এটি একটি কেন্দ্রীভূত অভিযান। কেউ এই মহিলাকে কেন্দ্রীভূত স্তরে তালিকায় ঢুকিয়েছে, বুথ স্তরে নয়।” এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রাহুল বলেন, “আমি নির্বাচন কমিশন এবং ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছি, এবং আমি ১০০ শতাংশ প্রমাণের সঙ্গে এটি করছি। আমরা নিশ্চিত যে কংগ্রেসের বিশাল জয়কে পরাজয়ে রূপান্তর করার জন্য একটি পরিকল্পনা করা হয়েছিল”।
এদিকে, মুনেশের আইডি কার্ডে যে ব্রাজিলিয়ান মহিলার ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল, তার নাম লরিসা নেরি, যিনি আট বছর আগে একজন হেয়ারড্রেসার ছিলেন। যদিও তাঁর জানা নেই কী ভাবে তাঁর ছবি নিয়ে এই বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠল। তাঁর এই ছবি নিয়ে নেরি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়েছেন, “বন্ধুরা, তারা আমার একটি পুরানো ছবি ব্যবহার করছে। এটি একটি পুরানো ছবি…… আমার বয়স ছিল প্রায় ১৮ বা ২০ বছর। আমি জানি না এটি নির্বাচন নাকি ভোটদান সম্পর্কিত কিছু… আর ভারতে। আহ ! তারা মানুষকে ঠকানোর জন্য আমাকে ভারতীয় হিসেবে চিত্রিত করছে, বন্ধুরা। কী পাগলামি!”
