ওঙ্কার ডেস্ক : সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের পর্দাফাঁস করতে এবার BRICS মঞ্চকে কাজে লাগাতে চাইছে ভারত। আগামী ৬ ও ৭ জুলাই ব্রাজিলের রাজধানী রিও ডি জেনেরিও তে বসতে চলেছে এই শীর্ষ সম্মেলন। যার নেতৃত্বে রয়েছেন স্বয়ং নরেন্দ্র মোদী। তাই এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত যে সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের মদত দেওয়ার বিষয়টি তুলতে চাইবে তা বলাইবাহুল্য। এই মঞ্চে রয়েছে ভারত, ব্রাজিল, রাশিয়া, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকার পাশাপাশি সম্প্রসারিত সদস্যপদ পেয়েছে আরও কয়েকটি দেশও। তবে এবারের সম্মেলন ঘিরে নয়াদিল্লির লক্ষ্য আলাদা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্য এ সফর বিশেষ চ্যালেঞ্জের বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহল। কারণ, পহেলগামে পর্যটক হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনও আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে এখনও সরাসরি নিন্দা প্রস্তাব বের করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসে জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ২২ জন নিরীহ পর্যটক। সেই ঘটনার নিন্দায় সরব হলেও তা আন্তর্জাতিক স্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পায়নি। কুইংদাওতে সদ্যসমাপ্ত এসসিও শীর্ষ সম্মেলনেও ভারত এই দাবি জানালেও সেই নিন্দাবার্তা ঘোষণাপত্রে স্থান পায়নি। পাকিস্তানের কড়া আপত্তিতে সেই প্রস্তাব খারিজ হয়েছিল। এর জেরে ভারতের পক্ষে এসসিও-র ঘোষণাপত্রে সই করতে অস্বীকার করেছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। এবার এসসিও-তে যা অসমাপ্ত, সেটাই ব্রিকসের মঞ্চে পূরণ করতে চায় ভারত। পাকিস্তান ব্রিকসের সদস্য নয়, তাই কূটনৈতিকভাবে এবার কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে নয়াদিল্লি। তবে বড় বাধা চিন ও রাশিয়া। দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান জি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিন এই বৈঠকে থাকছেন না, প্রতিনিধিত্ব করবেন তাঁদের দেশের প্রধানমন্ত্রী বা বিদেশমন্ত্রী। তাতেও চিনের অবস্থান নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। কারণ পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক মিত্রদের তালিকায় চিন শীর্ষে। সেক্ষেত্রে মোদী কতটা কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে পারবেন, তা নিয়েই এখন জোর আলোচনা চলছে।
বিদেশ মন্ত্রকের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব দাম্মু রবি স্পষ্টই বলেছেন, ভারতের আশা, ব্রাজিলের ঘোষণাপত্রে পহেলগাম হামলার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা থাকবে। তিনি আশাবাদী, ব্রিকস দেশগুলি ভারতের প্রতি সমবেদনা ও সংহতি জানাবে, এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় একত্রে অবস্থান নেবে।
গত কয়েক মাসে নয়াদিল্লি বিশ্বজুড়ে ৩২ টি দেশের কাছে সংসদীয় প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিল, যাতে পাকিস্তানের মদতে চলা জঙ্গি তৎপরতার কথা তুলে ধরা যায়। তবু এখনও পর্যন্ত কোনও বড় আন্তর্জাতিক ফোরামে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরাসরি নিন্দা প্রস্তাব পাশ হয়নি। ফলে রিওডি জেনেরিও-র ব্রিকস বৈঠক ভারতের কাছে বড় কূটনৈতিক মঞ্চ হতে চলেছে। মোদী প্রশাসনের লক্ষ্য চিনকে পাশ কাটিয়ে অন্তত বাকি দেশগুলির সহমত নিয়ে পাকিস্তানের জঙ্গীপুষ্টতার বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা আনা। সেটা সম্ভব হলে শুধু পাকিস্তানের বিরুদ্ধেই নয়, বিশ্বমঞ্চে ভারতের সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অবস্থানও অনেক শক্ত হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
