নিজস্ব সংবাদদাতা : বহু বছর ক্ষতির বোঝা টেনে চলার পর বিএসএনএল টানা দুটি ত্রৈমাসিকে লাভের মুখ
অবশেষে লাভের মুখ দেখছে BSNL বা ভারতীয় টেলিকম সংস্থা। গত আর্থিক বছরে তৃতীয় ত্রৈমাসিক রিপোর্টে দেখা গেছে সংস্থার লাভ হয়েছে ১,২৬২ কোটি টাকা। ফলে টেলি যোগাযোগের বর্তমান প্রতিযোগিতায় উঠে দাঁড়াতে চাইছে BSNL। সেই লক্ষ্যে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটে।। সংস্থার রজতজয়ন্তী উপলক্ষে তারা চালু করল ৯৭ হাজার ৫০০টি ৪জি মোবাইল টাওয়ার সাইট। সংস্থার দাবি, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত এই প্রকল্প ভারতের আত্মনির্ভরতার একটি বড় দৃষ্টান্ত।
এই ‘স্বদেশি ৪জি টেকনোলজি স্ট্যাক’-এ রয়েছে- সি-ডট নির্মিত কোর নেটওয়ার্ক, টিসিএস সিস্টেম ইন্টিগ্রেটর এবং তেজস নেটওয়ার্কস নির্মিত রেডিও অ্যাক্সেস নেটওয়ার্ক। এই প্রযুক্তি তথা স্ট্যাক ভবিষ্যতের জন্য তৈরি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যা সফটওয়্যার আপগ্রেডের মাধ্যমে ৫জি-তেও রূপান্তরিত করা যাবে। যদিও বর্তমানে ৫জি আপগ্রেডটি পরীক্ষামূলক ভাবে চালানো হচ্ছে।
নতুন টাওয়ারগুলির মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার ৯০০টি টাওয়ারে অর্থ জুগিয়েছে ডিজিটাল ভারতনিধি। এগুলি সংযুক্ত করবে প্রায় ২৬,৭০০টি দুর্গম, সীমান্তবর্তী ও নক্সাল অধ্যুষিত এলাকাকে। আশা করা যাচ্ছে এর ফলে অন্তত ২০ লক্ষ নতুন গ্রাহক ডিজিটাল নেটওয়ার্কে যুক্ত করা যাবে। এগুলি সৌরশক্তি চালিত। তাই এটা তৈরি করছে দেশের বৃহত্তম গ্রিন টেলিকম পরিকাঠামো।
বহু বছর ক্ষতির বোঝা টানার পর এবার আশা করা যাচ্ছে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টায় নামলো BSNL। সংস্থার রজতজয়ন্তীতে এ যেন পুনর্জীবনের বার্তা নিয়ে এল। কলকাতা টেলিফোন ডিভিশনের আওতায় রয়েছে কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলি। বর্তমানে এই ডিভিশন চালু করেছে ১,৫৯৬টি ৪জি সাইট। এই প্রকল্প খাতে খরচ হয়েছে প্রায় ৮,৩৮৪ কোটি টাকা। ২৫ লক্ষ গ্রাহকের ভিত্তি নিয়ে গত আর্থিক বছরে রাজস্ব সংগ্রহ হয়েছে ৪৮৪ কোটি টাকা, যার মধ্যে মোবাইল পরিষেবা থেকে এসেছে ১৯০ কোটি টাকা।
কলকাতা বাদে পশ্চিমবঙ্গ টেলিকম সার্কেলে চালু করা হয়েছে ২,১৪৮টি ৪জি সাইট। এর ফলে খরচ হয়েছে প্রায় ২,৭৮২ কোটি টাকা। ২৬ লক্ষ গ্রাহকের ভিত্তিতে গত আর্থিক বছরে রাজস্ব সংগ্রহ হয়েছে ৪৮২ কোটি টাকা, যার মধ্যে মোবাইল পরিষেবা থেকে এসেছে ১৮৩ কোটি টাকা।
২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিএসএনএলের গ্রাহক সংখ্যাো উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। ১ কোটি নতুন ৪জি গ্রাহক নিয়ে তা দাঁড়িয়েছে ৯ কোটিতে। ফলে কলকাতা টেলিফোনস ও পশ্চিমবঙ্গ সার্কেল মিলিয়ে নতুন ৪জি গ্রাহক এখন প্রায় ৭.৮ লক্ষ।
শুক্রবার বিএসএনএল-এর তরফে জানানো হয়েছে, ডিবিএন-এর অধীনে তাদের ২৬,৭০০টি টাওয়ার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যে চালু হয়েছে ১,২১৩টি টাওয়ার। আরও ১৮,৯০০টি টাওয়ার রয়েছে উদ্বোধনের অপেক্ষায়। এই টাওয়ারগুলির মাধ্যমে ইতিমধ্যেই যুক্ত হয়েছেন ২০ লক্ষ গ্রাহক, কভারেজে এসেছে প্রায় ১ কোটি মানুষ। বিএসএনএল সিএমডি এ. রবার্ট জে. রবি আইটিএস বলেছেন, “বিএসএনএলের রজতজয়ন্তী এ এক নতুন সূচনার দৃষ্টান্ত হয়ে রইল। নীতিগত সহায়তা, দক্ষ পরিচালনা ও শৃঙ্খলাপূর্ণ বাস্তবায়নের ফলে আমরা সাশ্রয়ী, নিরাপদ, টেকসই সংযোগ দিচ্ছি। এটাই আমাদের ৫জি-র দিকে যাত্রার গতিপথও।”
