স্পোর্টস রিপোর্টার : রাজ্যে ক্রীড়া সংস্থাগুলোতে তৃণমূল নেতাদের আর তৃণমূল ঘনিষ্ট কর্তাদের দাদাগিরি নতুন নয়। রাজ্যে পালাবদল হতেই তারাও ফুল বদল করতে মরিয়া। ব্যতিক্রম নয় বাংলার ক্রিকেটও। তিনি ছাপিয়ে গেছেন সবকিছুকে। সিএবিতে বসে নিজের চেয়ারের পেছনে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ছবি ছিল সিএবির টুর্নামেন্টে কমিটির চেয়ারম্যান প্রদীপ কুমার দে ওরফে বাপির। যেন মমতা অনুপ্রেরণাতেই তিনি এই পদে বসেছেন।
শুধু কী তাই অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি সিএবিতে বসেই অংশ নিয়েছেন। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরালও হয়েছে। বাপির এই ঘটনায় নিন্দার ঝড় সর্বত্র। নাম প্রকাশ করতে না চাওয়া এক সিএবি সদস্য বললেন, ‘কী করা যাবে। ক্রিকেটের সঙ্গে কোন যোগাযোগ নেই। না কোনদিন খেলেছে না ক্রিকেটের কোন খবর রাখে। না নিয়মিত মাঠে যান। জেসি মুখার্জীর ফাইনালে টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান হয়ে পুরীতে থাকেন। কী বা বলার থাকতে পারে। সি এ বির শীর্ষ কর্তাদের পেছন পেছনে ঘোরাই তার কাজ আর সেটাও রাজনীতির মদতে।
‘তবে রাজ্যে পালাবদল হতেই ৪ মে দুপুর ১২টার পরে বিজেপি যেমন রাজ্যের অটো ইউনিয়ন থেকে শুরু করে অনেকেই প্রদীপও তার ব্যতিক্রম নন। সূত্রের খবর ৪ তারিখ দুপুরেই সিএবির নিজের ঘর থেকে মমতার ছবি সরিয়ে ফেলেছেন তিনি। যেহেতু তার উত্তর কলকাতার ঠনঠনিয়া কালীবাড়ির সামনে বাড়ি, তাই তিনি এবারে রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের ঘনিষ্ট বলে নিজেকে এখন বিজেপি প্রমাণ করতে মরিয়া। তবে ছবি সবকথাই বলে। কে এই প্রদীপ কুমার দে! গত ৪-৫ বছরে উল্কার গতিতে তার উত্থান সিএবিতে।

সেই সময়ে প্রথমে অভিষেক ডালমিয়া সিএবি সভাপতি ছিলেন আর প্রদীপ মেডিকেল কমিটির চেয়ারম্যান হন। এরপরই তিনি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়ে সৌরভের সঙ্গে ঘনিষ্টতা বাড়াতে থাকেন। এরপরই টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান হন যে কমিটির কাজকর্ম নিয়ে বহুবিতর্ক। এছাড়া নানাভাবে মানুষকে চমকানোর অভিযোগ তার বিরুদ্ধে তো আছেই। তবে সিএবিতে এমন রাজনৈতিক ব্যক্তি কী থাকতে পারে ! যার ক্রিকেট নিয়ে নেই কোন ইতিহাস! নজর কিন্তু থাকবেই।