নিজস্ব রিপোর্টার : নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্যে ব্যাপক হারে প্রশাসনিক রদবদলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ সেই মাওমলার রায় সংরক্ষিত রাখলো।
প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনকে নিয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চের সামনে এই মামলার শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে বেঞ্চ ভারতের নির্বাচন কমিশনকে আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে আমলা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি, প্রতিস্থাপন এবং ডেপুটেশন সংক্রান্ত সমস্ত নথি আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, এরপর রায় ঘোষণা করা হবে।
শুনানির সময় কমিশনের আইনজীবী যুক্তি দেন যে এই ধরনের বদলি, প্রতিস্থাপন এবং ডেপুটেশন শুধু পশ্চিমবঙ্গেই সীমাবদ্ধ নয়, যে সব রাজ্যে নির্বাচন হতে চলেছে সেখানেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কমিশনের আইনজীবী আবেদনকারী এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই অভিযোগও খণ্ডন করেছেন যে, অন্যান্য নির্বাচনমুখী রাজ্যগুলির তুলনায় এই রাজ্যে বদলি অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তার মাত্রাও অনেক বেশি।
নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী বলেন, “বিহারে গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে ৪৮ জন আধিকারিককে বদলি করা হয়েছিল। যদিও এই বদলিগুলোর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয়, যদিও শীর্ষ আদালত তাতে হস্তক্ষেপ করেনি। মহারাষ্ট্রে বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেখানে মোট ৬১ জন, উত্তর প্রদেশে ৮৩ জন এবং মধ্যপ্রদেশে ৪৯ জন আধিকারিককে বদলি করা হয়েছিল। সেই তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে মাত্র ২৩ জন আমলা ও পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।” উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর, ডিভিশন বেঞ্চ কর্মকর্তাদের বদলি, প্রতিস্থাপন এবং ডেপুটেশন সম্পর্কিত সমস্ত প্রাসঙ্গিক নথি নির্বাচন কমিশন জমা না দেওয়া পর্যন্ত তাদের রায় স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবার রাজ্যে বিপুল সংখ্যক আমলা ও পুলিশ আধিকারিকদের বদলি নিয়ে ফের নিশানা করেছেন নির্বাচন কমিশনকে। তিনি বলেছেন, এই ধরনের বড় আকারের রদবদল সুষ্ঠু প্রশাসনিক কাজে বাধা সৃষ্টি করছে।