ওঙ্কার ডেস্ক: ওড়িশা, দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের ধরপাকড় চলছে বলে অভিযোগ। বাংলায় কথা বলার কারণে তাঁদেরকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে নিপীড়ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এমনকি অভিযোগ উঠেছে বহু পরিযায়ী শ্রমিককে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে। এই আবহে দিল্লি থেকে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের আটক করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে কি না সেই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট।
এক মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, দিল্লিতে আটক ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের অবস্থান নিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে দিল্লির মুখ্যসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে। গোটা বিষয়টি নিয়ে আদালতে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী বুধবার।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাজধানী দিল্লিতে বাঙালি বসতিতে জল ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরব হয়েছেন। তিনি নিজের ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘নয়াদিল্লির বসন্তকুঞ্জের জয় হিন্দ কলোনি থেকে উঠে আসা একের পর এক ভয়ঙ্কর হেনস্তার ঘটনার খবর শুনে আমি গভীরভাবে মর্মাহত ও বিচলিত। এই বসতি মূলত সেই বাংলাভাষী মানুষেরা তৈরি করেছেন, যাঁরা দিল্লিকে গঠন করার অসংগঠিত শ্রমশক্তির গুরুত্বপূর্ণ এক অংশ। শোনা যাচ্ছে, বিজেপি পরিচালিত সরকারের নির্দেশে তাঁদের জল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দিন কয়েক আগে হঠাৎ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে এবং ইলেকট্রিসিটি মিটার তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, তাঁরা নিজেদের টাকায় যে প্রাইভেট জলের ট্যাঙ্কারের ব্যবস্থা করেছিলেন, তা দিল্লি পুলিশ এবং আরএএফ-এর সহায়তায় আটকে দেওয়া হয়েছে।’
এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে তৃণমূল কংগ্রেস চুপ করে থাকবে না বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই আবহে এবার কলকাতা হাইকোর্ট কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করল।
