গোপাল শীল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাব। বেহাল অবস্থায় ধুঁকছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ের ইটখোলা পঞ্চায়েতের গোলাবাড়ি থেকে মধুখালি পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। রাস্তার বিভিন্ন অংশে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। কোথাও আবার কার্যত উধাও রাস্তা! বদলে পুকুরের চেহারা নিয়েছে। যার ফলে দুর্ভোগ চরমে উঠেছে স্থানীয়দের।বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। এই অবস্থায় দ্রুত রাস্তা সংস্কারের দাবি তুলেছেন এলাকার ভুক্তভোগী মানুষজন।
স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ, প্রায় ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে হতশ্রী অবস্থা এই রাস্তার। ক্যানিং ১ ব্লকের গোলাবাড়ি, মধুখালি, বুধোখালি-সহ অন্যান্য এলাকার বাসিন্দারাও প্রতিদিন এই রাস্তার উপর নির্ভরশীল। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার দুরবস্থার কথা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও স্থায়ীভাবে কোনও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যার ফলে রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। বর্ষার সময় সেই গর্তগুলিতে জল জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ফলে রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যেমন কঠিন হয়ে পড়েছে, তেমনই বেড়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
অন্যদিকে, ক্যানিং-কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী শহরাঞ্চলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বহু মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগের পথ এটি। পাশাপাশি অসুস্থ রোগীদের ক্যানিং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এই রাস্তার উপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু রাস্তার বেহাল দশার কারণে জরুরি পরিস্থিতিতে রোগী নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো নিয়েও উদ্বেগে থাকেন পরিবারের সদস্যরা। এছাড়াও স্থানীয় বেশ কয়েকটি স্কুলের হাজার হাজার ছাত্র ছাত্রী ও শিক্ষক শিক্ষিকারা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই নিত্য যাতায়াত করেন এই রাস্তা দিয়ে। স্থানীয় গাড়িচালকদেরও অভিযোগ, রাস্তার পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে প্রতিদিন যাত্রী নিয়ে চলাচল করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা খারাপ থাকায় অনেক গাড়ি এই পথে চলাচল করতেও অনীহা প্রকাশ করছে।
এমতাবস্থায় এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভোটের সময় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে রাস্তা সংস্কারের নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ভোট মিটে গেলে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখা যায় না। ফলে বছরের পর বছর ধরে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাস্তার বর্তমান পরিস্থিতি পরিদর্শন করে স্থায়ীভাবে সংস্কারের ব্যবস্থা করা হোক। তাঁদের বক্তব্য, এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা হলে শুধু যাতায়াতের সমস্যাই কমবে না, এলাকার চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় এবং সহজ হবে। এখন প্রশাসনের তরফে কবে ব্যবস্থা নেওয়া হয় সেটাই দেখার।